দারুণ জয়ে সমতা ফেরাল নিউজিল্যান্ড
২৯০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২১৪ রান সংগ্রহ করতেই দক্ষিণ আফ্রিকা হারিয়েছিল আট উইকেট। জয়ের জন্য শেষ সাত ওভারে প্রয়োজন ছিল ৬৯ রান। এ পর্যায়ে নিউজিল্যান্ডের সহজ জয়ের কথাই হয়তো ভেবেছিলেন অনেকে। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। কিন্তু জয়টা মোটেও সহজ হয়নি কিউইদের। নবম উইকেটে ৪৪ বলে ৬১ রানের ঝড়ো জুটি গড়ে মরা ম্যাচে প্রাণ ফিরিয়েছিলেন ডোয়াইন পিস্টোরিয়াস ও অ্যান্ডিলে ফেলুয়াকো। দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গিয়েছিলেন জয়ের খুব কাছাকাছি। তবে শেষমেশ মাত্র ৬ রানে হারের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে প্রোটিয়াদের।
পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটাররা। সেই ম্যাচে মাত্র চার রানে জিতেছিল সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকা। আর আজ ৬ রানের জয় দিয়ে ওয়ানডে সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা ফিরিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। কিন্তু তাঁর সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করতে পারেননি বোলাররা। ৫০ ওভারে মাত্র চার উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে ২৮৯ রান জমা করে ফেলেছিলেন কিউই ব্যাটসম্যানরা। ১০২ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন রস টেলর। দারুণ এই শতক দিয়ে একটি মাইলফলক ও একটি রেকর্ড গড়ে ফেলেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। নিউজিল্যান্ডের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে পূর্ণ করেছেন ওয়ানডেতে ছয় হাজার রান। আর ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি, ১৭টি শতক করে ছাড়িয়ে গেছেন নাথান অ্যাস্টলকে (১৬)।
টেলরের পর নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭১ রানের ইনিংস এসেছে জেমস নিশামের ব্যাট থেকে। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানও অপরাজিত ছিলেন শেষ পর্যন্ত। পঞ্চম উইকেটে নিশাম ও টেলর গড়েছিলেন ১২৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ৬৯ রান করেছেন অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন।
২৯০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই খুব বেশি স্বস্তিতে থাকতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। বড় ইনিংস খেলতে পারেননি হাশিম আমলা (১০), ফাফ দু প্লেসি (১১) ও জেপি ডুমিনি (৩৪)। ওপেনার কুইন্টন ডি ককের ব্যাট থেকে এসেছে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৭ রান। ৪৫ রান করেছেন অধিনায়ক ডি ভিলিয়ার্স। ৩৯তম ওভারে ডি ভিলিয়ার্স আউট হওয়ার পরেই অনেকটা ফিকে হয়ে এসেছিল প্রোটিয়াদের জয়ের আশা। সে সময় তাদের সংগ্রহ ছিল ১৯৯ রান। তবে শেষ পর্যায়ে দারুণ ব্যাটিং করে নজর কেড়েছেন পিস্টোরিয়াস। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে তিনি খেলেছেন ২৭ বলে ৫০ রানের ঝড়ো ইনিংস। ২৯ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ফেলুয়াকো।

স্পোর্টস ডেস্ক