ড্রয়ের আগে ফলোঅনের লজ্জা
বৃষ্টিবিঘ্নিত ফতুল্লা টেস্ট যে ড্র-ই হতে চলেছে, তা বোঝা গেছে আগেই। অপেক্ষা ছিল শুধু আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির। সেই সমাপ্তি শেষপর্যন্ত হয়ে গেল। কিন্তু তার আগে বাংলাদেশকে পড়তে হলো ফলোঅনের লজ্জায়। ফতুল্লা টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের হতাশাজনক পারফরম্যান্সই হয়েছে এই লজ্জার কারণ। রোববার পঞ্চম ও শেষ দিনে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ২৫৬ রানে। ভারতের চেয়ে ২০৬ রানে পিছিয়ে থাকায় ফলোঅনে পড়ে আবার ব্যাটিংয়ে নামতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য হারাতে হয়নি কোনো উইকেট। ১৫ ওভার ব্যাটিং করেছেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। স্কোরবোর্ডে জমা করেছিলেন ২৩ রান।
বৃষ্টির কারণে পঞ্চম দিনের খেলাও শুরু হয়েছিল মধ্যাহ্নবিরতির পর। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই সাকিব আল হাসানের উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। দিনের তৃতীয় ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেছেন এ সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। পঞ্চম উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন ওপেনার ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার। কিন্তু ৭২ রান করে হরভজন সিংয়ের বলে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েছেন ইমরুল। বরুণ অ্যারনের করা পরের ওভারে বোল্ড হয়ে গেছেন সৌম্যও (৩৭)। শুভাগত হোম (৯) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তবে অভিষেকেই আলো ছড়িয়েছেন লিটন দাস। এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের অবদান ৪৪ রান। ৪৫ বলের ইনিংসটিতে ৮টি চার ছাড়াও ছিল অশ্বিনকে মারা বিশাল এক ছক্কা। ৮৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার অশ্বিন।
বৃষ্টির কারণে পঞ্চম দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি। বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টি থেমে গিয়ে রোদ উঠেছে ফতুল্লায়। সাড়ে ১১টায় মাঠ পর্যবেক্ষণের পর খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা। মধ্যাহ্নবিরতির পর দুপুর পৌনে ১টায় শুরু হয় ব্যাট-বলের লড়াই।
ফতুল্লায় ব্যাট-বলের চেয়ে বৃষ্টির সঙ্গেই বেশি লড়তে হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটারদের। দ্বিতীয় দিন তো মুষলধারে বৃষ্টির কারণে মাঠ অবধি যেতেও পারেননি মুশফিক-কোহলিরা। প্রথম ও তৃতীয় দিনে বৃষ্টির লুকোচুরির মাঝে খেলা হয়েছে ১০৩.৩ ওভার। আর তাতে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করে ৬ উইকেটে ৪৬২ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। বাংলাদেশ সফরের একমাত্র টেস্টে প্রথম ইনিংসটা আর বড় না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাপ্তি টানার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ফলে চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই ব্যাটিং শুরু করেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু বৃষ্টির উপদ্রবে খেলা হয়েছিল মাত্র ৩১.১ ওভার। ইমরুল কায়েসের অর্ধশতকের সুবাদে ৩ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।
টানা ১১ ম্যাচে অর্ধশতক করে শচীন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে আরেক কিংবদন্তি ভিভ রিচার্ডসের পাশে নাম লিখিয়েছিলেন মুমিনুল হক। সুযোগ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সের রেকর্ড স্পর্শ করার। কিন্তু ফতুল্লা টেস্টের চতুর্থ দিনে আশা জাগিয়েও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যান। ব্যক্তিগত ৩০ রানের মাথায় হরভজন সিংকে অহেতুক উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিডঅফে ধরা পড়েছেন উমেশ যাদবের হাতে। ঠিক পরের ওভারে বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকেও সাজঘরে পাঠিয়েছেন ভারতের আরেক অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।
চতুর্থ দিনের শুরুতে তামিম ইকবাল অবশ্য নিজেকে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়। বাঁ-হাতি এই ওপেনার হয়ে গেছেন টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ফতুল্লার খানসাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ৭ রান করেই তামিম ছাড়িয়ে যান সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারকে। ইনিংসটা অবশ্য লম্বা করতে পারেননি তিনি। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের শিকারে পরিণত হয়ে ফিরে গেছেন ১৯ রান করে।
দুই ভারতীয় ওপেনার মুরালি বিজয় আর শিখর ধাওয়ানের ২৮৩ রানের উদ্বোধনী জুটির সুবাদে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে গিয়েছিল ভারত। দুজনেই তুলে নিয়েছেন শতক। মাত্র দুই রানের জন্য শতক না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়তে হয়েছে শুধু অজিঙ্কা রাহানেকে। বাংলাদেশের পক্ষে দারুণ বোলিং করে চারটি উইকেট তুলে নিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। পূর্ণ করেছেন দেশের মাটিতে ১০০ উইকেট নেওয়ার মাইলফলক। লেগস্পিনার জুবায়ের হোসেন পেয়েছেন দুটি উইকেট।

স্পোর্টস ডেস্ক