আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দলে চমক থাকল কতটা, কেমন হলো দল?
দুই সপ্তাহেরও কম সময় বাকি আছে বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে। আপাতত দলগুলো ব্যস্ত দল ঘোষণা আর শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে। সেই ধারবাহিকতায় ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয় শিরোপার মিশনে নামা আর্জেন্টিনার এই দলে কতটা চমক রেখেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি? আর দলই বা কেমন হলো?
মোটা দাগে বললে দুই-একটি প্রশ্ন বাদে খুব একটা চমক রাখেননি স্কালোনি। টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের জন্য যারা আলোচনায় ছিলেন তাদের নিয়েই শিরোপার মিশনে নামবে আলবিসেলেস্তেরা।
মূলত, কাতারে বিশ্বজয় করা দলটির গড় বয়স তুলনামূলক কম থাকায় সেই স্কোয়াডের বেশির ভাগ খেলোয়াড়কে নিয়েই বিশ্বকাপের এই নতুন চক্রে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ ছিল স্কালোনির সামনে। আর ট্রফি ধরে রাখার এই কঠিন মিশনেও সেই পরীক্ষিত সৈনিকদের ওপরই সবচেয়ে বেশি আস্থা রেখেছেন তিনি।
স্কালোনির ঘোষিত এই দলে সবচেয়ে বড় চমক সম্ভবত লেফট-ব্যাক মার্কোস আকুনার বাদ পড়া। তবে রিভার প্লেটের হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়ায় তার বাদ পড়াটা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে একেবারে অপ্রত্যাশিতও ছিল না।
আর্জেন্টিনার এই স্কোয়াডে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় রক্ষণভাগ নিয়ে। কারণ দলে দ্বিতীয় কোনো স্বীকৃত লেফট-ব্যাক নেই। তবে প্রয়োজনে এই পজিশনে খেলতে পারেন ফাকুন্দো মেদিনা কিংবা ভ্যালেন্তিন বার্কো। যদিও বার্কো ইদানীং মাঝমাঠে খেলছেন, তবুও লেফট-ব্যাক হিসেবে খেলার ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনার ডিফেন্সে বিকল্প খেলোয়াড়ের ঘাটতিটা কিছুটা স্পষ্ট।
এর বাইরে আরেকটি চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন হলো মার্কোস সেনেসির বদলে ফাকুন্দো মেদিনাকে দলে নেওয়া। যদিও সেনেসি সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিতই সুযোগ পাচ্ছিলেন। এছাড়া অভিজ্ঞ লিসান্দ্রো মার্তিনেজকেও রাখা হয়েছে বাঁ-পায়ের দ্বিতীয় সেন্টারব্যাক হিসেবে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের শেষ মুহূর্তে চোটের কারণে দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসো। তবে এবার জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। লো সেলসো ফেরায় এবার দলে জায়গা হয়নি এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া কিংবা ম্যাক্সিমো পেরোনের।
স্কালোনির এই দল নির্বাচন থেকে পরিষ্কার যে, মাঝমাঠের কেন্দ্রীয় ভূমিকায় লিয়ান্দ্রো পারাদেস ও অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারকেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।
অন্যদিকে, আক্রমণভাগে হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ তার সাম্প্রতিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন। ফলে বিশ্বের অন্য অনেক দলের চেয়ে আর্জেন্টিনা এবার স্কোয়াডে তুলনামূলক বেশি ফরোয়ার্ড রেখেছে। লোপেজকে মূলত সেন্টার ফরোয়ার্ডদের মধ্যে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আরেকটি বড় চমক হলো তরুণ তুর্কি ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনোর বাদ পড়া, যদিও গত ডিসেম্বর থেকেই এর একটা আভাস মিলছিল। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে সাম্প্রতিক সময়ে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়াই এই তরুণ তারকার দল থেকে বাদ পড়ার মূল কারণ।
সব মিলিয়ে আকুনা ও মাস্তানতুয়োনোর মতো দু-একজন বাদ পড়া ছাড়া বড় কোনো চমক নেই স্কালোনির স্কোয়াডে। তবে কাতার বিশ্বকাপের আরেকজন মহাতারকাকে এবার ভীষণ মিস করবে আর্জেন্টিনা, তিনি হলেন আনহেল দি মারিয়া। মূলত, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোয় স্কোয়াডে নেই তিনি।
দি মারিয়া আর্জেন্টিনার কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপের মতো বড় বড় ফাইনাল ম্যাচে গোল করে দলকে বারবার খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছেন। এবার মাঠের লড়াইয়ে তার সেই ‘ক্রাইসিস ম্যান’ বা ত্রাতার ভূমিকা কে নেবেন, সেদিকেই চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকবেন আর্জেন্টিনার কোটি কোটি ভক্ত-সমর্থক।

স্পোর্টস ডেস্ক