পাক-ভারত সিরিজে সীমান্ত সংঘাতের প্রভাব
অনেক দিন ধরেই বন্ধ আছে পাকিস্তান-ভারতের দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ। উত্তেজনাপূর্ণ এই ক্রিকেটীয় দ্বৈরথ আবার চালু করা যায় কি না, এমন আলাপ-আলোচনার জন্য আজ সোমবার দুবাইয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিল দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের। কিন্তু তার আগেই সব কিছু ভেস্তে গেছে ভারত সরকারের নির্দেশে।
পাকিস্তান-ভারতের সীমান্তে সংঘাত ও উত্তেজনার প্রভাব ভালোমতোই পড়েছে ক্রিকেট অঙ্গনে। সীমান্তে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো সিরিজ খেলা হবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। আইসিসির জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অবশ্য মুখোমুখি হয়ে যাবে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। আগামী ৪ এপ্রিল চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে মাঠে নামবেন ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা।
কাশ্মীরে সহিংসতা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই তোলপাড় চলছে দুই দেশের মধ্যে। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে আসা সন্ত্রাসীরা উত্তেজনা তৈরি করছে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে। এই অভিযোগ তুলেই দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী বিজয় গোয়েল বলেছেন, ‘পাকিস্তান যদি সীমান্তে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ না করে তাহলে ভারত-পাকিস্তান কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে পারে না। সন্ত্রাস আর খেলাধুলা হাতে হাত রেখে চলতে পারে না। পাকিস্তানের কাছে কোনো প্রস্তাব দেওয়ার আগে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে আগে সরকারের অনুমতি নিতে হবে।’
২০১২ সালের পর থেকে আর কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মুখোমুখি হয়নি ভারত ও পাকিস্তান। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ছয়টি সিরিজ খেলার ব্যাপারে একটা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একটা সিরিজও অনুষ্ঠিত হয়নি। পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে খেলা তো দূরের কথা, নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে গিয়ে খেলতেও রাজি না ভারত।

স্পোর্টস ডেস্ক