শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটেও এলো লাল কার্ড
বোলার লেগ বিফোরের আবেদন করলেন। তবে তাতে আউটও দিলেন না আম্পায়ার। রিভিউ চেয়ে বসলেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক। রিপ্লেতে দেখা গেল, বল লাইনের সামান্য বাইরে পড়েছে। সেই দফায় বেঁচে গেলেন ব্যাটসম্যান। ভুল আবেদনের কারণে একটি রিভিউ হারাল ফিল্ডিং দল। তবে এখন থেকে এমনটি আর হবে না। আম্পায়ার্স কলের ক্ষেত্রে রিভিউ নষ্ট হবে না। মে মাসে করা ক্রিকেট কমিটির সুপারিশ আইসিসির সভায় গৃহীত হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাস থেকে এই আইন চালু হবে।
কেবল তাই নয়, এখন থেকে কোনো ক্রিকেটার অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ করলে তাঁকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিতে পারবেন আম্পায়াররা। কেবল তাই নয়, এ জন্য ওভারকর্তনসহ ৫ রানের পেনাল্টিও ভোগ করতে হবে দলকে।
এ ছাড়া ব্যাটের ক্ষেত্রেও নতুন আইন আসতে যাচ্ছে ক্রিকেটবিশ্বে। এখন থেকে আর ইচ্ছেমতো মাপের ব্যাট ব্যবহার করতে পারবেন না ব্যাটসম্যানরা। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ক্রিকেট ব্যাটের আকার প্রস্থে ১০৮, গভীরতায় ৬৭ ও প্রান্তসীমায় ৪০ মিলিমিটারের বেশি হবে না। বদলে যাচ্ছে মানকড় আউটের নিয়মও। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বোলাররা বল করতে এসে বল না ছুড়ে নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের ব্যাটসম্যানকে আউট করতে পারতেন।
ক্রিকেট আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যাটসম্যান ফিল্ডিং দলের অনুমতি ছাড়া ব্যাট বাদে কেবল হাত দিয়ে বল স্পর্শ করে বা ধরে ফিল্ডারের কাছে ফেরত পাঠান বা স্টাম্পে লাগতে পারে, এমন বলের দিক পরিবর্তন করে তবে ফিল্ডিং দলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে আউট দিতে পারেন আম্পয়ার। এখন থেকে ‘হ্যান্ডেল দ্য বল’ নামে কোনো আউট থাকবে না ক্রিকেট অভিধানে। তার পরিবর্তে ‘অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড’-এর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম এই নিয়মের শিকার হয়েছেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান জেসন রয়।
২০১৫ সালে তখনকার আইসিসির ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান অনিল কুম্বলে ক্রিকেটের এই নিয়মগুলো পরিবর্তন করতে সোচ্চার হন। তখনই মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবকে ব্যাটের আকার নির্ধারণ করার দায়িত্ব দেয় আইসিসি। সৌরভ গাঙ্গুলী, রিকি পন্টিং, রডনি মার্শ ও কুমার সাঙ্গাকারার মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া কমিটি ক্রিকেটের বেশ কিছু নিয়মকানুন বদলানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাটের আকার নির্ধারণ, আম্পায়ারদের ক্ষমতা বৃদ্ধি, মানকড় আউট বাতিল, হ্যান্ডেল দ্য বল ও বাউন্সিং ব্যাটের ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তন। কিংবদন্তি এই ক্রিকেটারদের সুপারিশগুলো আইসিসির কাছে হস্তান্তর করে ক্রিকেট কমিটি। শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই আইনগুলো আইসিসির প্রধান নির্বাহীদের সভায় পাস হয়।

স্পোর্টস ডেস্ক