কিংবদন্তি হয়ে ওঠার অপেক্ষায় সাকিব
যদি প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দেওয়ার নায়ক কারা, উত্তরে হয়তো বেশ কিছু নাম আসবে। যদি বলা হয়, এদের মধ্যে সেরা কে তাহলে ভাবনার খুব বেশি অবকাশ নেই। চিন্তাভাবনা না করে নিশ্চিতভাবেই সাকিব আল হাসানের নাম বলবেন আপনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি করেছেন এই অলরাউন্ডার। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেকে বিশ্ব সেরাদের কাতারে নিয়ে গেছেন তিনি। সাকিবের সামনে এবার কিংবদন্তি হওয়ার হাতছানি। আর মাত্র ১৭ রান করলেই ওয়ানডে ক্রিকেটে এমন এক পর্যায়ে যাবেন এই টাইগার ক্রিকেটোর যেখানে তাঁর সামনে থাকবেন মাত্র চারজন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আর মাত্র ১৭ রান করলেই পাঁচ হাজার রান ও দুইশ উইকেট নেওয়া পঞ্চম ক্রিকেটার হবেন সাকিব। এই এলিট ক্লাবে রয়েছেন, সনৎ জয়সুরিয়া, শহীদ আফ্রিদি, জ্যাক ক্যালিস ও আবদুর রাজ্জাকের মতো অলরাউন্ডাররা। বুঝতেই পারছেন, নিজেকে কোন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন লাল-সবুজের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই প্রতিনিধি।
ওয়ানডেতে এখন ১৭৭ ম্যাচে পর্যন্ত চার হাজার ৯৮৩ রান করেছেন সাকিব আল হাসান। এই রান করতে সাকিবকে ওয়ানডে খেলতে হয়েছে ১৬৭টি ইনিংস। উইকেট নিয়েছেন ২২৪টি। জয়সুরিয়া, ক্যালিস, আফ্রিদিদের তালিকায় যেতে সাকিবের লাগবে আরো ১৭ রান। একটা জায়গায় অবশ্য সবার এগিয়ে আছেন সাকিব। পাঁচ হাজার রান করতে জয়সুরিয়া খেলেন ১৮২ ম্যাচ, আফ্রিদি ২৩৯ আর রাজ্জাক খেলেছেন ২৬৩ ম্যাচ। আগামী চার ম্যাচে ১৭ রান করলে ক্রিকেট বিশ্বের এই তিন মহারথীকে পেছনে ফেলবেন সাকিব।
২০০ উইকেট নিতে রাজ্জাক ১৮১, ক্যালিস ২২১, জয়সুরিয়া ২৩৫ ও আফ্রিদি খেলেন ২৩৮ ম্যাচ। সেখানে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে সাকিবকে খেলতে হয় মাত্র ১৫৬ ম্যাচ। চার হাজার রান ও ২০০ উইকেট নেওয়া অলরাউন্ডারদের মধ্যে সবার সেরা ছিলেন টাইগার অলরাউন্ডার। তাঁর চেয়ে দ্রুততম সময়ে এই রেকর্ডে কেউ পৌঁছাতে পারেননি।

কেবল একটা জায়গাতেই সাকিবের চেয়ে এগিয়ে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। পাঁচ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছাতে ক্যালিস খেলেন ১৩৭ ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১৭ রান করতে পারলে সাকিব ছাড়িয়ে যাবেন ইউনিস খান (১৬৭) মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (১৭০), দিলশান (১৭১), অর্জুনা রানাতুঙ্গা (১৭২), সুরেশ রায়না (১৭২), ডেমিয়েন মার্টিন (১৭৩), ইজাজ আহমেদ (১৭৯), স্টিফেন ফ্লেমিং (১৮০), মাহেলা জয়াবর্ধনে (১৮৩), অ্যালেন বোর্ডার (১৮৪), ব্রেন্ডন ম্যাককালামের (১৯১) মতো ব্যাটসম্যানদের।
ওয়ানডেতে ৪৪৫ ম্যাচ খেলে ১৩ হাজার ৪৩০ রান ও ৩২৩ উইকেট নিয়েছেন সনৎ জয়সুরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস ৩২৮ ম্যাচে ১১ হাজার ৫৭৯ রান ও ২৭৩ উইকেট নিয়েছেন, পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি ৩৯৮ ম্যাচে করেছেন ৮ হাজার ৬৪ রান ও উইকেট পেয়েছেন ৩৯৫টি আর আবদুর রাজ্জাক ২৬৫ ম্যাচে করেন পাঁচ হাজার ৮০ রান ও বল হাতে নিয়েছেন ২৬৯ উইকেট। ওয়ানডেতে সাকিবের রান ৪৯৮৩। বাঁহাতি এই স্পিনার নিয়েছেন ২২৪ উইকেট। একবার ভাবুন তো সাকিব যদি শেষ পর্যন্ত জয়সুরিয়া-আফ্রিদির মতো চারশর বেশি ম্যাচ খেলেন তাহলে তাঁর রান আর উইকেট সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে থামবে!

স্পোর্টস ডেস্ক