জয়-পরাজয়ের সন্ধিক্ষণে রুট
পরতে পরতে উত্তেজনা। এই কারণেই অ্যাশেজকে পৃথিবীর সেরা ক্রিকেট সিরিজ বলা হয়। পঞ্চম দিনের শেষ সেশনে জয় থেকে কয়েক হাত দূরে অস্ট্রেলিয়া। আহামরি ব্যাটিং করতে না পারলে প্রথম টেস্টের মতো দ্বিতীয় টেস্টেও হার অবশ্যম্ভাবী সফরকারীদের। ম্যাচ বাঁচাতে হলে খেলতে হবে প্রায় চারটি সেশন। যেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে পুরোপুরি দুটি সেশনও খেলতে পারেনি অসিরা।
সমীকরণটা যখন এমন, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে উনিশটা ওভার দেখেশুনে পার করলেন স্টোনম্যান ও অ্যালিস্টার কুক। বাগড়া বাধল বিশতম ওভারে। নাথান লায়নের আপাতনিরীহ একটা বলে লেগ বিফোর হয়ে গেলেন কুক। তিন ওভার বাদে তাঁকে অনুসরণ করলেন স্টোনম্যানও।
তাহলে কি অস্ট্রেলিয়ার মতো ভেঙে পড়তে শুরু করলে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপও। না, এমনটি হতে দিলেন না জো রুট। বটবৃক্ষের মতো ঠায় দাঁড়িয়ে গেলে উইকেটে। অস্ট্রেলীয় বোলারদের গোলা সমান বলের বিপক্ষে লড়াই করে গেলেন ইংলিশ দলপতি। প্রথমে জেমস ভিঞ্চ ও পরে ডেভিড মালান তাঁকে সঙ্গ দিলেন। তবে নিষ্ঠার সঙ্গে কর্তব্য পালন করতে পারলেন না কেউই। মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের বাউন্স আর সুইংয়ের কাছে হার মানলেন ভিঞ্চ ও মালান।
সতীর্থরা এসে গেলেও অস্ট্রেলিয়াকে অপেক্ষায় রাখলেন জো রুট। বলার অপেক্ষা রাখে না, অসিদের জয় আর ইংলিশদের পরাজয়ের মধ্যে সন্ধিক্ষণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন এই রুট। ইংল্যান্ডের হয়ে এই বছর সর্বোচ্চ রান জো রুটের। পঞ্চম দিন রুটকে ফেরাতে না পারলে এই ম্যাচে সমস্যায় পড়বে অস্ট্রেলিয়া। দেখা যাক, ম্যাচটা বাঁচাতে পারেন কি না রুট!
চতুর্থ দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৭৬। বাকি ছয় উইকেটে আর দরকার ১৭৮ রান। প্রকৃতি বাধা হয়ে দাঁড়ালে ম্যাচটা যে ড্র হচ্ছে না, সেটা বুঝে গেছেন। রুটকে না ফেরাতে পারলে ম্যাচ হারবে অস্ট্রেলিয়া। দিন শেষে ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন রুট। সঙ্গী ক্রিস ওকসের সংগ্রহ ৫ রান। ব্যাট হাতে ওকস যে একেবারে খারাপ নন, সেটা একটা পরিসংখ্যান দেখালে পরিষ্কার হবেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নয়টি শতক রয়েছে এই অলরাউন্ডারের। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৩৮ রানে অলআউট করার নায়ক যদি জেমস অ্যান্ডারসন হন, তাহলে সেই চিত্রনাট্যের দ্বিতীয় প্রধান চরিত্র এই ওকস। চার উইকেট নিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের পরের ব্যাটসম্যানরাও একেবারেই খারাপ নন। রয়েছেন জনি বেয়ারস্টো ও মঈন আলীর মতো পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান। আর ক্রেইগ ওভারটন ও স্টুয়ার্ট ব্রডও ব্যাট হাতে নেহাতই মন্দ নন!
এর আগে প্রথম ইনিংসে অসিদের ৪৪২ রানের জবাবে ইংল্যান্ড অলআউট হয় মাত্র ২২৭ রানে। ফলে ইংলিশদের জন্য জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৫৪ রান।

স্পোর্টস ডেস্ক