তবুও জয়ের স্বপ্ন মিরাজের
ঢাকা টেস্টে চালকের আসনে বেশ ভালোভাবেই আছে সফরকারী শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে অল্প রানে গুটিয়ে দিয়ে লঙ্কানরা লিড পেয়েছে বড় অঙ্কের। তবে স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ এত সহজে হাল ছাড়ছেন না। তাঁর মতে চেষ্টা করলে এই ম্যাচও জেতা সম্ভব।
শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ ২০০ রান, তারা ৮ উইকেট হারিয়েছে। আর লিড নিয়েছে ৩১২ রানের। এই লিড তৃতীয় দিনে যে আরো বড় হচ্ছে, তেমনটা অনুমিতই।
মিরপুরে এখন পর্যন্ত ৩০০ রান বা তার বেশি লক্ষ্য অতিক্রম করে জিততে পারেনি কোনো দলই। তাই ম্যাচে বেশ পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।
হতাশায় মোড়ানো দলের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৮ রানটা এসেছিল মিরাজের ব্যাট থেকেই। তাঁর হার-না-মানা ইনিংসটায় ভর করে বাংলাদেশ বেঁচেছে লজ্জা থেকে। ব্যাট হাতে তিনি রুখে না দাঁড়ালে একশো রানের নিচে গুটিয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকতো না। পরে বল হাতেও নিয়েছেন দুই উইকেট।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে মিরপুরে দলের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন মিরাজ। আর সেখানেই জানিয়েছেন ম্যাচটা এখনো বাংলাদেশের পক্ষে জেতা সম্ভব, ‘উইকেট আমার কাছে স্বাভাবিকই মনে হচ্ছে। আচরণ খুব একটা অপ্রত্যাশিত ছিলনা। বল গড়িয়েও যায়নি বা বড় বড় টার্নও দেখা যায়নি। অবশ্য কিছুটা টার্ন আছে সেটা ঠিক। ব্যাটসম্যানরা নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে খেললে ফল আমাদের পক্ষে আসতে পারে।’
তৃতীয় দিনে মিরপুরের উইকেটে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে হবে চতুর্থ ইনিংস। প্রথম দুই দিনে শেরেবাংলার পিচে ব্যাটসম্যানদের নাকানি-চুবানি খাইয়েছেন প্রতিপক্ষ বোলাররা। স্পিনারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পেসাররাও দেখা পেয়েছেন সাফল্য।
খালি চোখে বাংলাদেশ দলের এই ম্যাচ জেতার স্বপ্নটা ফিকে হয়ে যাওয়ারই কথা। তার ওপর আগে কখনোই বাংলাদেশ দল কোনো টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনশো বা তার চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের দেখা পায়নি।
এমন কঠিন সমীকরণের সামনে এসেও মিরাজ বিশ্বাস করেন জয় পাওয়াটা সম্ভব,‘আমরা কিন্তু শ্রীলঙ্কার মাঠেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটা টেস্ট জিতেছিলাম। প্রায় ২০০ রানের মত লক্ষ্য ছিল আমাদের সামনে। ওদের মাটিতে যদি আমরা ২০০ রান তাড়া করে জিততে পারি। তাহলে আমি বিশ্বাস করি ঘরের মাঠে আমরা ৩০০ বা এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে অবশ্যই জিততে পারি।’

ক্রীড়া প্রতিবেদক