‘নতুন জীবনের’ জন্য তৈরি আমির
টেস্ট ক্রিকেটে যে এভাবে ফিরতে পারবেন, সেটা কি মোহাম্মদ আমির নিজেও ভাবতে পেরেছিলেন? ছয় বছর আগে যে লর্ডসে ইচ্ছাকৃতভাবে নো বল করে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন, সেই লর্ডসেই আবার শুরু করেছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস। আমিরের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে পাকিস্তানও পেয়েছে ৭৫ রানের স্মরণীয় জয়। আমির নিজে অবশ্য খুব বেশি জ্বলে উঠতে পারেননি। দুই ইনিংস মিলিয়ে নিতে পেরেছেন মাত্র তিনটি উইকেট। তবে প্রতিভাবান এই বাঁহাতি পেসার যে ‘নতুন জীবনের’ জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত, সেটা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক।
২০০৯ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল আমিরের। অসাধারণ বোলিং দেখে অনেকেই তাঁকে বিবেচনা করেছিলেন ওয়াসিম আকরামের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে। সেই তুলনা যে অমূলক ছিল না, তা দারুণভাবেই প্রমাণ করেছিলেন আমির। মাত্র ১৪টি টেস্ট খেলেই নিয়েছিলেন ৫১ উইকেট। কিন্তু শুরু হতে-না-হতেই শেষ হতে বসেছিল আমিরের সম্ভাবনাময় ক্রিকেট ক্যারিয়ার। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে এসে জড়িয়ে গিয়েছিলেন স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে। পেয়েছিলেন পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা।
সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ করে গত বছর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন আমির। আর ইংল্যান্ড সফর দিয়ে শুরু করেছেন টেস্ট ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়। স্পট ফিক্সিংয়ের কলঙ্কজনক অধ্যায়টি যে তিনি পেছনে ফেলে এসেছেন, সেটাই সবাইকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দারুণ জয়ের পর তিনি বলেছেন, ‘এটা আমিরের জন্য একটা নতুন জীবনের সূচনা। আমার মনে হয়, সে ভালো নৈপুণ্য দেখাতে পারবে। আর সবার কাছে প্রমাণ করতে পারবে যে এখন সে সত্যিই একজন ভালো মানুষ, একজন ভালো ক্রিকেটার।’
২০১০ সালে লর্ডসের সেই কুখ্যাত স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির ম্যাচে এক ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন আমির। এবার অবশ্য সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে এক উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন দুটি উইকেট। তবে ভবিষ্যতে আমির আরো ভালো করতে পারবেন বলেই আশা মিসবাহর, ‘সে নিশ্চিতভাবেই আরো ভালো করবে। এখানে তার কিছু মানসিক বাধাও ছিল। কারণ, এই ভেন্যুতেই সেই ঘটনা ঘটেছিল। স্বাভাবিকভাবেই এটা মাথায় চলে আসে। এখন সেই ধাপটা সে পেরিয়ে গেছে। আর সে সত্যিই পাকিস্তান দলের জন্য আরো কার্যকর হয়ে উঠবে।’

স্পোর্টস ডেস্ক