স্ট্রাউসের মন্তব্যে পিটারসেন হতাশ
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর থেকে গত প্রায় দেড় বছরে ইংল্যান্ড দলে ‘ব্রাত্য’ হয়ে পড়েছেন কেভিন পিটারসেন। মাঝে কিছুটা আশার আলো দেখতে পেয়েছিলেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) নতুন সভাপতি কলিন গ্রেভসের কথায়। কিন্তু সাবেক সতীর্থ ও ইসিবির নতুন ক্রিকেট পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস আবার হতাশ করেছেন ‘কেপি’কে।
২০০৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাবের পর থেকে ইংল্যান্ডকে বেশ কিছু স্মরণীয় জয় এনে দিয়েছিলেন পিটারসেন। রক্ষণ আর আক্রমণের মিশেলে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। তবে ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠার
পাশাপাশি বারবার বিতর্কে জড়িয়ে নিজের ক্যারিয়ারকে হুমকির মুখেও কম ফেলেননি।
২০১৩ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীতে সতীর্থদের প্রতি গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন পিটারসেন। তারপরও ইসিবির সভাপতি কলিন গ্রেভস বলেছিলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করতে পারলে ইংল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পেতে পারেন এই দীর্ঘদেহী ব্যাটসম্যান। কিন্তু সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন স্ট্রাউস। পিটারসেনের প্রতি ‘আস্থার অভাব’ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘পিটারসেনকে দল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। কিন্তু আমি তাঁকে ভবিষ্যতের জন্য কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারব না।’
অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটে সময়টা দারুণ কাটছে পিটারসেনের। গত সোমবার প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম ত্রিশতক করার পর জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্নও দেখছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক স্ট্রাউসের কথা শুনে পিটারসেন ভীষণ হতাশ, ‘মনে হচ্ছে আমার ইংল্যান্ড দলে ফেরার কোনো আশা নেই। আমি পুরোপুরি বিধ্বস্ত। তারা আমাকে দলে না নেওয়ার কারণ হিসেব বলেছে বিশ্বাসের কথা। বিশ্বাস কিন্তু দ্বিপক্ষীয় ব্যাপার। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না আমার সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের আধা ঘণ্টা পর সেটা ইন্টারনেট আর বিবিসিতে কিভাবে চলে আসে। আমি তো কাউকে বলিনি। তাহলে কে বলল? তারা বলছে যে তারা আমাকে বিশ্বাস করছে না। কিন্তু অন্যরাই বা তাদের কিভাবে বিশ্বাস করবে?’
২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলার সময় সতীর্থদের ব্যঙ্গ করে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কাছে এসএমএস পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিল পিটারসেনের বিরুদ্ধে। সে সময় ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক ছিলেন স্ট্রাউস। সে কথা যে আজও ভুলতে পারেননি, পিটারসেন সম্পর্কে সর্বশেষ মন্তব্যে সেটাই যেন বুঝিয়ে দিলেন তিনি।

স্পোর্টস ডেস্ক