সুযোগ পেয়েও যে কারণে স্ট্যাম্পিং করেননি উইকেটরক্ষক
সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলছে আইএল টি-টোয়েন্টি। সেখানে ঘটেছে অদ্ভুত এক ঘটনা। ফ্র্যাঞ্চাইজি এই টুর্নামেন্টে এমআই এমিরেটসের উইকেটরক্ষক নিকোলাস পুরান ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিপক্ষকে আউট করা থেকে বিরত থাকেন। প্রতিপক্ষ ডেজার্ট ভাইপার্সের ব্যাটার ম্যাক্স হোল্ডেনকে স্টাম্পিং আউট করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও করেননি।
সাধারণত দ্রুত রানআউট বা স্ট্যাম্পিংয়ের চেষ্টায় ভুল হয়, কিন্তু ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হোল্ডেন ক্রিজ থেকে অনেক দূরে থাকা সত্ত্বেও পুরান তাকে আউট করেননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিওটি ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
ধারাভাষ্যকাররাও পুরানের এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত হন। রশিদ খানের করা ম্যাচের ১৬তম ওভারে যখন এই ঘটনা ঘটে, তখন একজন ধারাভাষ্যকার অবাক হয়ে বলেন, ‘ওহ! তিনি স্টাম্পিং করলেন না।’ আরেকজন মন্তব্য করেন যে পপিং ক্রিজ থেকে ব্যাটারের দূরত্ব দেখে এটিকে সহজে স্টাম্পিং করা যেত। এমনকি এই দৃশ্য দেখে আম্পায়ারকেও মুচকি হাসতে দেখা যায়।
ধারণা করা হচ্ছে, হোল্ডেন তখন মন্থর গতিতে ব্যাট করছিলেন (৩৭ বলে ৪২ রান), তাই তাকে আউট না করে ক্রিজে টিকিয়ে রাখলে ডেজার্ট ভাইপার্সের দ্রুত রান তোলার গতি কমে যাবে, এমন কৌশলগত ভাবনা থেকেই এমআই এমিরেটস তাকে টিকিয়ে রাখে।
তবে এমআই এমিরেটসের এই কৌশল বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এই কাণ্ডের এক বল পরই ডেজার্ট ভাইপার্স তাদের ব্যাটার ম্যাক্স হোল্ডেনকে রিটায়ার্ড হার্ট দেখিয়ে তুলে নেয়। হোল্ডেন মাঠ ছাড়ার পরবর্তী ৪ ওভারে ডেজার্ট ভাইপার্স দ্রুত ৪১ রান যোগ করে ৪ উইকেটে ১৫৯ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায়।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, এর আগের ম্যাচেই মন্থর গতির জন্য সাকিব আল হাসানকেও এমআই এমিরেটস রিটায়ার্ড হার্ট করে তুলে নিয়েছিল, যখন তিনি ১২ বলে ১৬ রান করেছিলেন। সেই ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে সাকিব পরের ম্যাচে একাদশেও জায়গা পাননি।
প্রতিপক্ষ ডেজার্ট ভাইপার্সের এই কৌশল শেষ পর্যন্ত কাজে লেগেছে। জয়ের জন্য ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাকিব-রশিদ-পুরানদের এমআই এমিরেটস শেষ ওভারে ১৬ রানের প্রয়োজন মেটাতে পারেনি এবং মাত্র ১ রানের জয় তুলে নিয়েছে ভাইপার্স।

স্পোর্টস ডেস্ক