এবার সেঞ্চুরি করলেন হৃদয়, জয় দিয়ে গ্রুপপর্ব শেষ করল রংপুর
একটু আগেই মিরপুরে ঝড় তুললেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হাসান ইসাখিল। সেঞ্চুরিতে রংপুর রাইডার্সকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল তারা। সেই চ্যালেঞ্জকে বেশ ভালোভাবেই নিল রংপুর। এবার রাইডার্সদের হয়ে ঝড় তুললেন তাওহিদ হৃদয়। এতে কঠিন লক্ষ্যও সহজ করে জয় দিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করল রংপুর।
আজ শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান সংগ্রহ করেছে নোয়াখালী। জবাব দিতে নেমে ১৯.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রংপুর। জয় পেয়েছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে।
চলমান বিপিএলে ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন করার পর অন্য এক তাওহিদ হৃদয়ের দেখা মিলেছে। রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে ওপেনিং করতে নেমে নিয়মিত রানের ফুলঝুড়ি ফোটাচ্ছেন তিনি। নোয়াখালীর বিপক্ষে এবার তো ষোলকলা পূর্ণ করেন নিলেন।
বড় রান তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন হৃদয়। নোয়াখালীর বোলারদের শাসন করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। অপর পাশে ডেভিড মালান সেটি দেখে যাচ্ছিলেন। দলীয় ৭৮ রানের মাথায় ধীরগতির ইনিংস খেলা মালান ফিরে যান। ফেরার আগে ১৭ বলে করেন ১৫ রান।
মালান ফিরলেও চলছিল হৃদয়ের ঝড়। কোনো কিছুই তাকে আটকাতে পারছিল না। হাফসেঞ্চুরির পর তুলে নেন সেঞ্চুরিও। চলমান বিপিএলে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। এরপর দলকে জয়ের বন্দরের কাছে রেখে ফিরে যান হৃদয়। ফেরার আগে ৬৩ বলে ১০৯ রান করেন তিনি। হৃদয়ের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৫ চার আর ২ ছক্কায়।
এরপর খুশদিল শাহকে নিয়ে বাকি কাজটা সেরে নেন লিটন দাস। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। লিটন অপরাজিত থাকেন ৩৫ বলে ৩৯ রানে। আর খুশদিল ৪ বলে ৩ রানে।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মন্দ ছিল না। তবে দলীয় রান ৩০ এর ঘরে যাওয়ার পর ৪ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপ বাড়িয়েছিল নোয়াখালী। দ্রুতই ফিরে যান রহমত আলী (১০ বলে ৯) আর জাকের আলী (৭ বলে ৩)। একপ্রান্ত আগলে রাখা হাসান ইসাখিল এরপর জুটি বাঁধেন অধিনায়ক হায়দার আলীর সঙ্গে। তৃতীয় উইকেটে তাদের সেই জুটি রংপুর রাইডার্সের তৈরি করা চাপ কাটিয়ে ওঠে।
দুজন মিলে গড়েন ৭৪ বলে ১৩৭ রানের জুটি। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে কিছুটা ধীরগতিতে খেলা হাসান ইসাখিল শেষদিকে আবারও ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করেন। এতে তুলে নেন চলমান বিপিএলের দ্বিতীয় আর নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত হাসান অপরাজিত থাকেন ৭২ বলে ১০৭ রানে। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৪ চার আর ১১ ছক্কায়। অন্যদিকে, ৩২ বলে ৪২ রানে অপরাজিত ছিলেন হায়দার আলী।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নোয়াখালী এক্সপ্রেস : ২০ ওভারে ১৭৩/২ (রহমত ৯, জাকের ৩, ইসাখিল ১০৭, হায়দার ৪২; ফাহিম ৪-০-৩৩-০, আকিফ ৪-০-৫৩-০, নাহিদ ৪-০-৪০-১, আলিস ৪-০-২২-১, খুশদিল ৪-০-২২-০)
রংপুর রাইডার্স : ১৯.৪ ওভারে ১৭৪/২ (মালান ১৫, হৃদয় ১০৯, লিটন ৩৯*, খুশদিল ৩*; হাসান ৪-০-২৩-১, মুশফিক ৪-০-৪৭-০, মেহেদী রানা ৩.৪-০-৩১-০, সাব্বির ২-০-১৫-০, জাহির ৪-০-২৭-১, রহমত ১-০-১২-০, সৌম্য ১-০-১৮-০)

স্পোর্টস ডেস্ক