আইসিসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিসিবি
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল নেই—এটি এখন পুরোনো খবর। কিন্তু বাংলাদেশ না থাকলেও বিতর্ক থেমে নেই। নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের নিয়ে। বিশ্বকাপে সংবাদ সংগ্রহের জন্য আবেদন করা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বা অনুমতিপত্র দেয়নি আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চেয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
দীর্ঘ ২১ দিনের টানাপোড়েন শেষে গত ২৪ জানুয়ারি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। এরপরই বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আবেদন নাকচ করে দেন আইসিসি। বিষয়টি নিয়ে আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন।
আমজাদ বলেন, ‘আপনারা জানেন গতকালই আইসিসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা তারপর জানতে পেরেছি। এরপর আইসিসির কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছি। কথা হচ্ছে কেন করা হয়েছে (সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড) আমরা জানতে চেয়েছি বিষয়টা।’
অতীতে ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ কিংবা ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ অংশ না নিলেও দেশের সাংবাদিকরা মাঠ থেকে সংবাদ সংগ্রহ করেছিলেন।
আমজাদ হোসেন ফুটবলের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেললেও আমাদের সাংবাদিকরা সেখানে গিয়ে কাভার করেন। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে এবং বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ দর্শকপ্রিয় দেশ হিসেবে আমাদের সংবাদমাধ্যম কর্মীদের এই সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। তবু এটা তাদের (আইসিসি) সিদ্ধান্ত। এখানে তো আমাদের কিছু বলার নেই।’
প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি সাংবাদিক বিশ্বকাপের কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলেন, যাদের সবাইকেই নিরাশ হতে হয়েছে। আইসিসির পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো কারণ জানানো না হলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি আইসিসির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ‘তাদের ভিসা-অ্যাক্রেডিটেশন কিছুই দেওয়া হয়নি। কারণ, সরকার মনে করছে তাঁদের (বাংলাদেশি সাংবাদিক) ভারত ভ্রমণ অনিরাপদ।’
তবে বিসিবি মনে করে, বাংলাদেশ দল না থাকলেও ক্রিকেট ভক্তদের জন্য বিশ্বকাপের খবরাখবর পৌঁছে দেওয়া সাংবাদিকদের পেশাদার দায়িত্ব। সেই পথ বন্ধ করে দেওয়া আইসিসির দ্বিমুখী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।

স্পোর্টস ডেস্ক