জাতীয় দল নিয়ে লক্ষ্যের কথা জানালেন হামজাদের নতুন কোচ টমাস ডুলি
বাংলাদেশ ফুটবল দলের দায়িত্ব নিতে আজ সকালেই ঢাকায় পা রেখেছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অধিনায়ক টমাস ডুলি। ঢাকায় নামার পর কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়েই বিকেলে যোগ দেন বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির (বিএসপিএ) এক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে।
একপর্যায়ে মঞ্চেও ওঠেন লাল-সবুজের এই নতুন গুরু। বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে কোনো নতুন কোচের এভাবে রাজকীয় এবং ব্যতিক্রমী পরিচিতি আগে কখনো দেখা যায়নি।
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশে আসার পেছনের গল্প শোনান টমাস ডুলি। এশিয়ান ফুটবলের সঙ্গে নিজের পুরোনো সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিলেন মার্কিন এই কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি এশিয়ায় বহু বছর কাজ করেছি। যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় হিসেবে যখন প্রথম চীন বা জাপানে এসেছিলাম, তখন এই অঞ্চলের ফুটবল সম্পর্কে আমার ধারণা কম ছিল। ভেবেছিলাম এখানে মানিয়ে নিতে পারব কি না।’
তবে নিজের কোচিং ক্যারিয়ারে এসে সেই ভুল ভাঙে ডুলির। লম্বা সময় তিনি কাজ করেছেন এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনের কোচ হিসেবে। সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ফিলিপাইন জাতীয় দলের কোচ হওয়ার পর এশিয়ার প্রায় সব জায়গায় ঘুরেছি এবং এই জায়গাটি আমার দারুণ লেগে যায়। আমি মনে মনে এখানে আবারও কাজ করতে চেয়েছিলাম।’
বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুটা জানতাম। তাই যখন প্রধান কোচের পদটি খালি হলো, আমি আবেদন করলাম। ফিলিপাইন ও আমার বাবা-মায়ের দেশ জার্মানির সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার কারণেও বাংলাদেশে কাজ করাটা আমার জন্য দারুণ এক সুযোগ।’
বাংলাদেশের ফুটবলে সমর্থকদের তুমুল উন্মাদনা ও প্রত্যাশার চাপকে মোটেও ভয় পাচ্ছেন না হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়াদের এই নতুন কোচ।
ডুলি বলেন, ‘সমর্থকদের চাপ কোনো ব্যাপার না। আমি এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমি সবসময় খেলোয়াড় এবং ফেডারেশনকেও বলি— লক্ষ্য বাস্তবসম্মত হলে যেকোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব। বাংলাদেশ গত ২৩ বছর ধরে বড় কিছু জিতেনি, এবার সময় এসেছে মাঠে কিছু করে দেখানোর।’
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়েই ডুলি মনে করিয়ে দেন, সাফল্যের কোনো সংক্ষিপ্ত পথ বা ‘শর্টকাট’ নেই। বাংলাদেশ দলকে নিয়ে নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুরস্কার পাওয়ার আগে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। জীবনে কোনো কিছু অর্জন করতে হলে আপনাকে কিছু না কিছু ত্যাগ করতেই হবে। আর যারা সেই ত্যাগ করতে রাজি আছে, তাদের নিয়েই আমরা সফল হব।’
বাংলাদেশকে নিয়ে নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে টমাস ডুলি বলেন, ‘আপাতত আমার লক্ষ্য হলো ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশকে ১৬০ বা ১৫০-এর মধ্যে নিয়ে আসা। তবে এটা রাতারাতি হবে না, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।’
ফুটবলে সাফল্যের রহস্য নিয়ে নিজের লেখা একটি বইয়ের প্রসঙ্গ টেনে ডুলি বলেন, ‘আমি একটা বই লিখেছি, যার নাম 'দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট সাকসেস ইন সকার দ্যাট নো ওয়ান টিচেস'। সেখানে আমি সাফল্যের চারটি মূল স্তম্ভের কথা বলেছি, যার একটি হলো ‘মানসিকতা’। মানসিকতা হুট করে বদলায় না, এটা হলো চিন্তাভাবনার ধরন।’
‘আমাদের ফুটবল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে এবং বুঝতে হবে যে আমাদের ঠিক কী করা দরকার। র্যাঙ্কিংয়ে ১৬০-এর কাছাকাছি থাকাটা অসম্ভব কিছু নয়, তবে তা আগামীকালই সম্ভব হবে না; হয়তো এক বছরের মধ্যে আমরা তা অর্জন করতে পারব,’ যোগ করেন টমাস ডুলি।

স্পোর্টস ডেস্ক