আবারও চোটে নেইমার, বড় দুঃসংবাদ ব্রাজিল ভক্তদের জন্য
চোটের পর চোটের থাবা! প্রায় তিন বছর জাতীয় দলের বাহিরে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার ছিলেন। সেই চোট কাটিয়ে ফিরেছিলেন বিশ্বকাপের দলে। কিন্তু আবারও চোটের থাবায় নেইমার। মাংষপেশির চোটে এখন বিশ্বকাপ খেলা নিয়েই তৈরি হয়েছে শঙ্কা।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমারের পায়ের বর্তমান অবস্থা জানতে ইমেজিং স্ক্যান ও এমআরআই করার সময় কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখেছে কনফেডারেশন অব ব্রাজিল ফুটবল (সিবিএফ)। সাধারণ মানুষের ভিড় এড়াতে তাদের অনুশীলন ক্যাম্পের কাছের একটি ডায়গনোস্টিক সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ করে এই সুপারস্টারের মেডিকেল টেস্ট করানো হয়।
শুরুতে নেইমারের ক্লাব সান্তোস এই চোটকে হালকা বললেও, জাতীয় দলের উন্নত পরীক্ষায় ভিন্ন কিছু দেখা গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা গেছে, নেইমার মূলত ‘গ্রেড-টু’ মাত্রার পেশির ইনজুরিতে পড়েছেন। এর ফলে আপাতত তার সব ধরনের অনুশীলন বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই চোটের কারণে আসন্ন প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে তো তিনি থাকছেনই না, এমনকি আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে সেলেসাওদের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেও তাকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল।
জাতীয় দলের প্রধান চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমার আজ বৃহস্পতিবার নেইমারের চোটের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নেইমার গতকাল আমাদের অনুশীলন ক্যাম্প গ্রাঞ্জা কোমারিতে এসে পৌঁছেছেন। আমরা তার সব ধরনের মেডিকেল পরীক্ষা শেষে একটি এমআরআই করিয়েছি। এমআরআই রিপোর্টে তার গ্রেড-২ মাত্রার পেশির চোট ধরা পড়েছে। বর্তমানে তার বিশেষ চিকিৎসা চলছে। আমরা আশা করছি, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার অনুমতি পাবেন।’
ডাক্তারের দেওয়া এই সময়সীমা অনুযায়ী, সুস্থ হতে নেইমারের অন্তত ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে। এর অর্থ হলো, আগামী ১ জুন পানামার বিপক্ষে এবং পাঁচ দিন পর মিসরের বিপক্ষে ব্রাজিলের যে দুটি অফিশিয়াল প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে, তার একটিতেও মাঠে নামতে পারবেন না নেইমার।
ফিফার অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড় গুরুতর ইনজুরিতে পড়লে দল পরিবর্তন করা যায়। সিবিএফ-এর ভেতরের খবর, আগামী ৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রে মিসরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ শেষেই নেইমারের ব্যাপারে চূড়ান্ত ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ব্রাজিল। সেদিনই নিশ্চিত হওয়া যাবে—নেইমার দলের সঙ্গে বিশ্বকাপে থাকছেন, নাকি তার জায়গায় অন্য কাউকে দলে নেওয়া হচ্ছে!

স্পোর্টস ডেস্ক