অ্যাসিড ট্র্যাজেডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে উইসা, হিউস্টনে ইতিহাসের গোল
হিউস্টনের রাত তখন পর্তুগালের দাপটে আলোকিত। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় ইউরোপীয় পরাশক্তি পর্তুগাল। বিশ্বকাপ মঞ্চে ৫২ বছর পর ফেরা গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের শুরুটা হয়ে ওঠে চাপ, অস্থিরতা আর কঠিন প্রতীক্ষার।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। কর্নার থেকে আসা বলের দিকে নিখুঁত টাইমিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন ইয়োনে উইসা। শক্তিশালী হেডে বল জড়িয়ে যায় জালে। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় পর্তুগিজ সমর্থকদের উল্লাস। ইতিহাসের পাতায় লেখা হয় নতুন অধ্যায়, বিশ্বকাপে কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের প্রথম গোল।
এই গোল শুধু সমতা ফেরানোর মুহূর্ত নয় বরং এক দীর্ঘ অন্ধকারকে ছাপিয়ে ওঠার প্রতীক। কারণ উইসার জীবনগাথা শুরু হয়েছিল ফুটবলের বাইরের এক ভয়াবহ বাস্তবতা দিয়ে।
২০২১ সালের ১ জুলাই নিজের বাড়ির দরজা খুলতেই অ্যাসিড হামলার শিকার হন তিনি। এক নারী তার মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ক্ষোভে তার মুখে ছুড়ে মারে দাহ্য রাসায়নিক। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার চোখ। চিকিৎসকেরা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে স্থায়ী অন্ধত্বের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এরপর শুরু হয় দীর্ঘ ছয় মাসের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একাধিক অস্ত্রোপচার। শারীরিক যন্ত্রণা ও মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ফিরতে হয় তাকে স্বাভাবিক জীবনে। পরে আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে তিনি জানান, সেই ঘটনার পর থেকে তিনি তীব্র আতঙ্কে ভুগতেন। হঠাৎ শব্দে চমকে ওঠা, ভিড় এড়িয়ে চলা, রাতে একা ঘুমাতে না পারা ছিল নিত্যসঙ্গী।
তবুও থেমে যাননি উইসা। লরিয়ঁ থেকে ব্রেন্টফোর্ড পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেছেন তিনি। কঠিন সময় পেরিয়েও ফুটবলে ফিরে আসা তার মানসিক দৃঢ়তারই প্রতিচ্ছবি।
হিউস্টনের রাত তাই শুধু একটি গোলের গল্প নয় বরং এক পুনর্জন্মের কাহিনি, অন্ধকারকে জয় করার প্রতীক। ইয়োনে উইসা আজ কেবল কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের প্রথম বিশ্বকাপ গোলদাতা নন। তিনি এক অদম্য বেঁচে থাকার নাম।

স্পোর্টস ডেস্ক