পর্তুগালকে রুখে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন কলম্বিয়া
দুই দলের জন্যই ম্যাচটি ছিল গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াই। তবে ফলাফলে ছিল পার্থক্য। পর্তুগালের সামনে জয়ের কোনো বিকল্প নেই আর উরুগুয়ে ম্যাচে ব্যবধান সমতায় রাখলেই হবে। এমন ম্যাচে শুরু থেকে শেষ— একের পর এক চলল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ। রোমাঞ্চ ছড়াল শেষ মিনিট পর্যন্ত। তবে গোলের দেখা পেল না কোনো দল। নিজেদের লক্ষ্যে সফল থেকে গ্রুপ সেরা হয়েই নকআউটে গেল কলম্বিয়া।
আজ রোববার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায় ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল আর কলম্বিয়া। জমজমাট লড়াই শেষে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়েছে ম্যাচ।
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ শেষে দুই জয় আর এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘কে’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকেই শেষ ৩২- এ পা রাখল কলম্বিয়া। অন্যদিকে, এক জয় আর দুই ড্রয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে গেল পর্তুগাল।
এদিকে, তিন ম্যাচে সমান একটি করে জয়, পরাজয় আর ড্রয়ে ৪ পয়েন্টে নিয়ে গ্রুপের তৃতীয় দল হিসেবে প্রথমবার নকআউটে কোয়ালিফাই করেছে কঙ্গো। আর কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিতে হয়েছে উজবেকিস্তানকে।
ম্যাচের শুরু থেকে বল দখলের লড়াই পর্তুগাল এগিয়ে থাকলেও প্রতিআক্রমণে সুযোগ তৈরির পথ খুঁজছিল কলম্বিয়া।
ম্যাচের ১৭তম মিনিটেই প্রতিআক্রমণ থেকে পর্তুগালের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় কলম্বিয়া। তবে এ যাত্রায় পর্তুগিজদের রক্ষা করেন গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। করদোবার শট একহাত দিয়ে দিক পরিবর্তন করে দেন কস্তা।
এরপর ২১তম মিনিটে দ্বিতীয়বার পর্তুগালের রক্ষণে হানা দিয়েছিল কলম্বিয়া। তবে এবার বাধা হয়ে দাঁড়ান রুবেন নেভেস। কলম্বিয়ার শট আটকে দেন তিনি।
ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে গোলের সবচেয়ে ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল পর্তুগাল। ডানপ্রান্ত থেকে ডি-বক্সের মধ্যে আসা ক্রস ক্লিয়ার করতে পারেনি কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার। পেনাল্টি এরিয়াতে সেই বল পেয়ে বুলেট গতির শট নিয়েছিলেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। দারুণ দক্ষতায় সেটি আটকে দেন গোলরক্ষক বার্গাস। ফিরতি বলে রোনালদোর বাইসাইকেল কিকও ব্লক হয়ে যায়।
এরপর ৪২তম মিনিটে আরও একবার কলম্বিয়ার রক্ষণে ভীতি ছড়ায় পর্তুগাল। লং-থ্রো থেকে পাওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভলি করেছিলেন জোয়াও ফেলিক্স। তবে সেটি চলে যায় গোলবারের সামান্য ওপর দিয়ে।
ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে কলম্বিয়ার জোড়া শট ব্লক হয় পর্তুগালের ডিফেন্সে। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় থেকেই বিরতিতে যায় দুই।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও বাড়ে আক্রমণের ধার। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই। তবে বেশি আধিপত্য দেখাচ্ছিল কলম্বিয়া। বল দখল থেকে শুরু করে আক্রমণ— সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল তারা।
পর্তুগালের রক্ষণে মুহুর্মুহু আক্রমণের সুফল পায় তারা একদম শেষ মুহূর্তে। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল পেয়েছিল কলম্বিয়া। উদযাপনও করে নিয়েছিল তারা। তবে রেফারি ভিএআর চেক করে অফসাইডের সিদ্ধান্ত দেন।
এতে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়লেই এটাই সাফল্য কলম্বিয়ার। গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে গ্রুপসেরা তারা।

স্পোর্টস ডেস্ক