যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে কিংবদন্তি, তারপর বিদায়ের প্রহর
সব গল্পেরই একদিন শেষ হয়। কিন্তু কিছু বিদায় সহজে মেনে নেওয়া যায় না। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) পর্তুগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ থেকেই বিদায় নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। সেই হারের সঙ্গে হয়তো শেষ হয়ে গেল জাতীয় দলের জার্সিতে লুকা মদরিচের দুই দশকেরও বেশি সময়ের পথচলা। যদিও ৪০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি এখনও অবসরের ঘোষণা দেননি। তবু বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই আলোচনা ছিল। এটাই হতে পারে তার শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট।
মদরিচের গল্পটা শুধু একজন ফুটবলারের গল্প নয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত শৈশব। শরণার্থী জীবন আর নানা বাধা পেরিয়ে তিনি পৌঁছেছেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ছোটখাটো গড়নের কারণে একসময় অনেকেই তাকে নিয়ে সন্দেহ করেছিলেন। কিন্তু নিজের মেধা, পরিশ্রম আর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি সেই সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মাঠেই।
২০০৬ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর প্রায় দুই দশক ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন মদরিচ। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠে ক্রোয়েশিয়া। সেই আসরে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতার পাশাপাশি একই বছর জেতেন ব্যালন ডি'অর। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে দলকে এনে দেন তৃতীয় স্থান। জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন এই মিডফিল্ডার।
বয়স ৪০ হলেও চলতি বিশ্বকাপেও মাঝমাঠে ছিলেন দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু পর্তুগালের বিপক্ষে হার এড়াতে পারেননি। শেষ বাঁশি বাজার পর তার হতাশ মুখই যেন বলে দিচ্ছিল। একটি ম্যাচের সঙ্গে হয়তো শেষ হয়ে গেল দীর্ঘ এক পথচলাও।
মদরিচের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সত্যিই এখানেই শেষ কি না, সেটি সময়ই জানাবে। তবে যদি এটাই হয়ে থাকে ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে তার শেষ ম্যাচ, তাহলে বিদায় নেবেন এমন একজন ফুটবলার। যিনি শুধু ট্রফি জেতেননি নিজের খেলা আর নেতৃত্ব দিয়ে কোটি মানুষের ভালোবাসাও জিতেছেন।

স্পোর্টস ডেস্ক