ভক্তদের উদ্দেশে কেপ ভার্দে গোলরক্ষক ভোজিনহার বার্তা
আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে কেপ ভার্দে। তবু আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি জিতে নিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়। সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের পর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা—সব দলকেই কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে দলটি। আর সেই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারিগর গোলরক্ষক ভোজিনহা।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে আলোচনায় আসেন ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। তার অসাধারণ পারফরম্যান্সে জয় পায়নি স্পেন। সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে না পেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
নকআউট পর্বেও নিজের সেরাটা উজাড় করে দেন ভোজিনহা। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে কেপ ভার্দে ৩-২ গোলে হারলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয় পেতে খেলতে হয়েছে অতিরিক্ত সময়।
ম্যাচ শেষে সতীর্থদের প্রশংসায় ভাসান ভোজিনহা। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমান টক্কর দিয়েছি। শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছি। আমাদের জেতারও সুযোগ ছিল। নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আমরা গর্বিত। অবশ্যই বিদায় নেওয়ায় কষ্ট আছে, কিন্তু একই সঙ্গে আমরা সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আমার সব সতীর্থ, কোচিং স্টাফ, ফেডারেশন এবং সেই সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাদের সমর্থন দিতে এখানে এসেছিলেন। তাদের ভালোবাসা আমাদের সব সময় অনুপ্রাণিত করেছে।’
ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ভোজিনহা। তার বিশ্বাস, এই বিশ্বকাপ কেপ ভার্দের ফুটবলের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
ভোজিনহা বলেন, ‘এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমি আশা করি, এখান থেকে আমাদের জন্য আরও ভালো সময় অপেক্ষা করছে। আমাদের দলে অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার আছে। ভবিষ্যতে তাদের বিশ্বের সেরা লিগগুলোতে খেলতে দেখলে আমি অবাক হব না।’
টুর্নামেন্টের মাঝপথে ভোজিনহা বলেছিলেন, ‘আমরা অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। আমাদের পরিবার অনেক ত্যাগ করেছে আমাদের জন্য। আমরা কেপ ভার্দের সব মানুষের জন্য খেলেছি। গোটা বিশ্বের সামনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমরা ছোট হতে পারি, কিন্তু সবাই যোদ্ধা।’
মাঠে তার প্রমাণ প্রতি মুহূর্তে দিয়েছে কেপ ভার্দে। হারলেও তাই জায়গা করে নিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে।

স্পোর্টস ডেস্ক