অনন্য উচ্চতায় ফরাসি কোচ
নিজের সাফল্যের তালিকায় আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করলেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম। নকআউট পর্বে ১০টি জয়ের রেকর্ড গড়ে বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন তিনি। একই সঙ্গে দলকে তুলেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে।
রাউন্ড অব ষোলোতে ফিলাডেলফিয়ার ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলের কঠিন জয় পায় ফ্রান্স। ম্যাচজুড়ে ছিল শারীরিক লড়াই আর কৌশলগত চাপ। শক্ত রক্ষণে ভর করে প্যারাগুয়ে শুরু থেকেই ফরাসি আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করে।
প্রথমার্ধে বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয় ফ্রান্স। প্যারাগুয়ের লো-ব্লক ডিফেন্স ভাঙতে হিমশিম খেতে হয় এমবাপ্পেদের।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে গতি বাড়ায় ফ্রান্স। এক পর্যায়ে বদলি নামা মিডফিল্ডার দেজিরে দুয়ে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হলে ভিএআর দেখে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। চাপের মুহূর্তে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোল সংখ্যা ১৯-এ নিয়ে যান এমবাপ্পে। এই মুহূর্তে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন তিনি।
এই জয়ের মাধ্যমে দিদিয়ের দেশম বিশ্বকাপে মোট ১৭টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়েছেন, যা জার্মান কোচ হেলমুট শনের ১৬ জয়ের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৪ থেকে শুরু করে চারটি বিশ্বকাপে তার অধীনে ফ্রান্সের ধারাবাহিক সাফল্য চোখে পড়ার মতো।
২০১৪ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৮ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, ২০২২ সালে রানার্সআপ হওয়ার পর এবারও শিরোপার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে লে ব্লুজরা।
চলতি আসরে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে ১৪ গোল করেছে ফ্রান্স, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ২টি। আক্রমণ ও রক্ষণ দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স তাদের এগিয়ে রাখছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ মরক্কো। শক্ত প্রতিপক্ষ হলেও আত্মবিশ্বাসী ফরাসিরা, আর কোচ দেশমের অভিজ্ঞতাই হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

স্পোর্টস ডেস্ক