মরক্কোর লড়াইয়ে পাশে থাকবেন ফুটবলপ্রেমী মেয়র মামদানি
রাজনীতির কঠিন হিসাবের বাইরে জোহরান মামদানির আরেকটি পরিচয় আছে। তিনি একজন ফুটবলপ্রেমী মেয়র। যিনি বিশ্বাস করেন একটি বলও মানুষকে একত্রিত করতে পারে। নিউইয়র্কের বহুজাতিক সমাজে ফুটবলকে তিনি দেখেন সংস্কৃতি, পরিচয় ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে। তাই মেয়রের চেয়ারে বসেও মাঠের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়ে গেছে আগের মতোই। বিশ্বকাপের উত্তেজনা থেকে শুরু করে অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে ফুটবলের বন্ধন। সবকিছুতেই তার এই ভালোবাসার প্রতিফলন দেখা যায়।
গত বছরের মেয়র নির্বাচনের আগে কনি আইল্যান্ডের ‘সকার ফেস্ট’ অনুষ্ঠানে একদল অপেশাদার ফুটবলারের সঙ্গে খেলতে নেমেছিলেন মামদানি। সেখানেই ম্যানহাটনের একটি ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী ও শখের ফুটবলার রাফায়েল গোমেজ প্রথমবার তার ফুটবল দক্ষতা দেখেন। রাফায়েল তখন জানতেন না, বলের জাদু দেখানো এই মানুষটিই হতে যাচ্ছেন নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ মেয়র।
রাফায়েল বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, এটি আরেকটি সাধারণ ফুটবল টুর্নামেন্ট। পরে জানতে পারি, তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করছেন। তখন মনে হয়েছিল, এমন একজন মেয়র পাওয়া দারুণ ব্যাপার, যিনি ফুটবলকে বোঝেন।’
টেলিভিশনে মামদানির বক্তব্য দেখার পর তার প্রতি আরও আগ্রহ তৈরি হয় রাফায়েলের। তিনি বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন, ফুটবল নিউইয়র্কবাসীর জীবনের বড় অংশ এবং শহরের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে একত্রিত করার শক্তি রাখে। অভিবাসীদের নিয়ে নানা কঠোর বক্তব্যের সময়ে তার মুখে ফুটবল ও ঐক্যের কথা শুনে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম।’
মামদানি বিশ্বাস করেন, ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করার শক্তি রাখে। নিউইয়র্কের অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ফুটবল একটি সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। বিশেষ করে কুইন্সে বসবাসকারী হিস্পানিক, ক্যারিবিয়ান ও এশীয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এই খেলা নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার অন্যতম মাধ্যম।
বিশ্বকাপকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতেও ভূমিকা রেখেছেন মামদানি। টিকিটের দাম কমানো, দর্শকদের সুবিধার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া এবং যাতায়াত খরচ কমানোর উদ্যোগ তাকে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আরও জনপ্রিয় করেছে।
আর্জেন্টিনার ম্যাচ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের ম্যাচের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে মিসরের পক্ষে কথা বলেন মামদানি। তিনি মন্তব্য করেন, ‘মিসরকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’ এমনকি সুযোগ পেলে ওই ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্তের রিপ্লে আবার দেখতে চান বলেও জানান তিনি। ফুটবল নিয়ে তার এই আবেগ দেখিয়ে দেয়, এটি তার কাছে শুধুই বিনোদন নয়, বরং অনুভূতির জায়গা।
ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার গভীর টান। উগান্ডায় থাকা এক চাচার মাধ্যমে আর্সেনালের ভক্ত হয়ে ওঠেন তিনি। যুব পর্যায়ে খেলেছেন, দলের নেতৃত্বও দিয়েছেন। পরে রাজনীতির ব্যস্ততা বাড়লেও ফুটবলের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয়নি।
জাতীয় দলের ক্ষেত্রে মামদানির পছন্দ মরক্কো। বিশ্বকাপে মরক্কোর সাফল্য তাকে আনন্দ দেয়। রাজনীতিতে যেমন তিনি ঐক্যের কথা বলেন, ফুটবলেও বিশ্বাস করেন একই শক্তিতে।
একজন মেয়র। যিনি সাধারণ মানুষের মতোই প্রিয় দলের খেলা দেখেন। মাঠের উত্তেজনা অনুভব করেন এবং এখনও ফুটবলকে নিজের জীবনের অংশ মনে করেন। এই পরিচয়ই জোহরান মামদানিকে অন্য অনেক রাজনীতিকের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

স্পোর্টস ডেস্ক