ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রথমার্ধেই বিধ্বস্ত বাংলাদেশ
ম্যাচের শুরুর দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়তে দেখা যায় বাংলাদেশকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মিলিয়ে যায় সেটি। একের পর এক গোলের পসরা সাজিয়ে বসে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। সেটির বিপরীতে বাংলাদেশের ডিফেন্সের চেহারা হয়ে উঠল মলিন। একবার উদযাপনের উপলক্ষ্য পেলেও সেটির মেয়াদ ছিল এক মিনিটেরও কম। সবমিলিয়ে ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে প্রথমার্ধেই হাফডজন গোল হজম করেছে বাংলাদেশ।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার গেলোরা বুং কর্নো স্টেডিয়ামে ফিফা আসিয়ান কাপে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথমার্ধ শেষে ৬-১ গোলে পিছিয়ে বাংলাদেশ।
ম্যাচের প্রথম পাঁচ মিনিটে বল দখলের লড়াই ইন্দোনেশিয়া এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশও সুযোগ বুঝে গতি দিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করছিল। যদিও বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না।
এর মাঝেই ম্যাচের ১১তম মিনিটে লিড নেয় স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। ওলে রমনির ব্যাক পাস থেকে পাওয়া বল প্রথম স্পর্শেই জালে পাঠিয়েছেন মিচেল লি বেকার। বাংলাদেশ গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ ঝাঁপিয়ে হাতই লাগাতে পেরেছেন শুধু। বল গিয়ে জায়গা করে নেয় জালে।
ম্যাচের ১৮তম মিনিটে আক্রমণে উঠেছিল বাংলাদেশ। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন শাহরিয়ার ইমন। তবে বক্সের মধ্যে কাউকে খুঁজে পাননি তিনি। দৌড়ে ভেতরে ঢোকা শমিত সোম অল্পের জন্য বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ইন্দোনেশিয়ার ডিফেন্ডাররা বল বিপদমুক্ত করে মাঝমাঠে পাঠান।
সেখান থেকেই কাউন্টার অ্যাটাকে কপাল পুড়ে বাংলাদেশের। ম্যাচের ২০তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল আদায় করে নেয় ইন্দোনেশিয়া। প্রথম শট প্রতিহত করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক। আবারও গোলমুখে ফিরলে ব্লক করেন জায়ান আহমেদ। কিন্তু বক্সের মধ্যে জটলার মধ্য থেকে বল ক্লিয়ার করতে পারেনি বাংলাদেশ। বল জালে জড়িয়ে দেন মিচেল লি বেকার।
ম্যাচের ৩১তম মিনিটে তৃতীয় গোল আদায় করে নেয় ইন্দোনেশিয়া। এবারের গোলদাতা রিজকি রিদো।
পুরো টুর্নামেন্ট মিলিয়ে বাংলাদেশি সমর্থক প্রথম উদযাপনের উপলক্ষ্য আসে ম্যাচের ৩৬তম মিনিটে। ফিফা আসিয়ান কাপে প্রথম গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার জাল খুঁজে নেন শাহরিয়ার ইমন।
বাঁ দিক দিয়ে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন সুকি ইতোফুসা। একেবারে বাইলাইনের কাছে গিয়ে কাট ব্যাক করেন গোলমুখে। প্রায় ফাঁকায় থাকা ইমন সামনে ঝাঁপিয়ে হেডে বল জালে পাঠান।
তবে বাংলাদেশের এই স্বস্তির মেয়াদ ছিল এক মিনিটেরও কম। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে চতুর্থ গোল আদায় করে নেয় স্বাগতিকরা। প্রথম গোলের মতোই রমনির কাট ব্যাক থেকে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে দেন বেকার। সেই সঙ্গে পূর্ণ করে নেন হ্যাটট্রিক।
প্রথমার্ধেই বাংলাদেশের রক্ষণে রীতিমতো ত্রাসের সৃষ্টি করে ইন্দোনেশিয়া। গোলের নেশায় মত্ত হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ৪২তম মিনিটে পঞ্চম গোল আদায় করে নেয় ইন্দোনেশিয়া। হেডার থেকে সহজেই বল জালে জড়ান বেকার।
প্রথমার্ধেই আরও একবার বাংলাদেশের জাল খুঁজে নেয় ইন্দোনেশিয়া। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ষষ্ঠ গোল আদায় করে নেয় ইন্দোনেশিয়া। গোলরক্ষক শ্রাবণের সেভের পর কর্নার পেয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। সেই কর্নার থেকে আসা বলে হেড দিয়ে গোল করেছেন জাস্টিন হাবনার। ৬-১ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দুই দল।

স্পোর্টস ডেস্ক