জরিমানার টাকা আয় করতে কত সময় লাগবে রোনালদোর?
সর্বশেষ ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে সবচেয়ে আলোচিত দল ছিল পর্তুগাল। মাঠের পারফরম্যান্সের কারণে নয়, বরং কোচের সঙ্গে দলের সেরা তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দ্বন্দ্বের কারণে আলোচনায় এসেছিল দলটি। তাদের দ্বন্দ্ব এতটাই প্রকট হয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো।
সেই ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ৩০ দিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ২৫৫ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা) জরিমানা করেছে পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ)। তবে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শীর্ষ ধনী এই ক্রীড়াবিদকে এত কম অঙ্ক জরিমানা করায় নেটদুনিয়ায় উঠেছে হাস্যরসের ঝড়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকেরা রীতিমতো ট্রল করছেন পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনকে। মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক ফুটবলপ্রেমী ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘রোনালদো সৌদি আরবে প্রতি মিনিটে কামায় ৩৫০ ইউরো, আর সেখানে জাতীয় দল তাকে জরিমানা করেছে মাত্র ২৫৫ ইউরো! হাস্যকর নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়।’
সম্প্রতি ‘ফোর্বস’ সাময়িকীর প্রকাশিত তালিকায় ২০২৬ সালেও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী ফুটবলারের শীর্ষ স্থানটি ধরে রেখেছেন রোনালদো। মাঠ ও মাঠের বাইরের আয় মিলিয়ে তার বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। এমন এক টাকার পাহাড়ে বসে থাকা ফুটবলারকে মাত্র ২৫৫ ইউরো জরিমানা করা নিয়ে রসিকতায় মেতেছে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলোও।
পর্তুগালের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক ‘এ বোলা’ একটি মজার হিসাব কষে বের করেছে—এই জরিমানার পুরো অর্থ উপার্জন করতে আসলে রোনালদোর ঠিক কত সময় লাগবে!
গত বছরের জুনে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের সঙ্গে নতুন চুক্তি সই করেন রোনালদো। সংবাদমাধ্যমটির হিসাব অনুযায়ী, আল নাসর থেকে বর্তমানে রোনালদোর বাৎসরিক মূল বেতন প্রায় ২০ কোটি ৮০ লাখ ইউরো, যা বোনাস ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৫ কোটি ইউরোর কাছাকাছি। এই বিশাল বেতনের হিসেবে রোনালদো দিনে আয় করেন প্রায় ৫ লাখ ৮০ হাজার ১১২ ইউরো!
সেই হিসাবে, পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের দেওয়া জরিমানার এই ২৫৫ ইউরো আয় করতে রোনালদোর সময় লাগে মাত্র ৩৮.৬ সেকেন্ড! আর শতকরার হিসাবে, এই জরিমানার অর্থ ৪১ বছর বয়সী এই আল নাসর তারকার বার্ষিক বেতনের মাত্র ০.০০০১২ শতাংশ!
এর আগে গত ফিফা উইন্ডোতে নেশনস লিগের ম্যাচে ডেনমার্কের মুখোমুখি হওয়ার আগে পর্তুগালের হেড কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিবাদে জড়ান রোনালদো। একাদশে নিজের ভূমিকা ও খেলার সময় নিয়ে কোচের সঙ্গে অমিল হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কোপেনহেগেনের দলীয় ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান তিনি।
ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়ে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন রোনালদো। সেই বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, জাতীয় দলে তার অবস্থান নিয়ে দেওয়া দুটি প্রতিশ্রুতি ভেঙেছেন কোচ।
জাতীয় দলের শৃঙ্খলা ও নিয়ম অনুযায়ী স্বেচ্ছায় ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেলে ১ থেকে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা এবং জরিমানার স্পষ্ট বিধান রয়েছে। সেই নিয়মের অধীনেই এই আর্থিক ও সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই তারকা। অবশ্য বিবৃতিতে রোনালদো নিজেই তাকে শাস্তি দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

স্পোর্টস ডেস্ক