দ্বিতীয় দিনে হতাশ বাংলাদেশ শিবির, দাপুটে আফগানরা
প্রথম দিনের চাপ কাটানো তো দূরে থাক আরও হতাশা নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই সাড়ে তিনশ রানের আগেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর বোলিংয়ে শুরুটা ভালো হলেও মোটেন্টাম ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। নির্বিষ বোলিয়ে হতাশা বাড়িয়েছে। বিপরীতে, দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক আফগানিস্তান।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) আবুধবাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ৭৯ ওভার ব্যাট করে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান তুলেছে আফগানিস্তান। এখনো তারা পিছিয়ে ১৩৫ রানে। ১৮৬ বল খেলে ৮৪ রানে অপরাজিত অধিনায়ক রহমত শাহ আর ৯১ বলে ২৬ রানে ইকরাম আলীখিল। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৩৪৬ রান।
নিজেদের প্রথম ইনিংসের শুরুর দিকেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেল আফগানিস্তান। নবম ওভারে আফগান ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটলের ব্যাটে বল লেগে জমা হয় উইকেটের পেছনে লিটন দাসের গ্লাভসে। তবে বাংলাদেশের জোড়ালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। বাংলাদেশও রিভিউ নেয়নি। পরে রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাট ছুঁয়ে গ্লাভসে জমা হয়েছিল।
তবে সেই আফসোস বেশি সময় করতে হয়নি বাংলাদেশকে। নিজের পরের ওভারে এসেই উইকেট তুলে হাসান। ফেরান সেই অটলকেই। ইনিংসের ১১তম ওভারে হাসানের বলে স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন অটল। ফেরার আগে ৩১ বলে ১৭ রান করেন আফগান ওপেনার।
এরপর মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরে কৌশল বদলান বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। একপ্রান্ত থেকে আর অন্যপ্রান্ত থেকে পেস আক্রমণে আফগান ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। সেটার সুফলও আসে দ্রুতই। আফগান শিবিরে আঘাত হানেন পেসার এবাদত হোসেন। ৪৪ বলে ২০ রান করা শাহিদুল্লাহ কামালকে ফেরান তিনি।
কিন্তু এরপর একটি উইকেটের জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয় বাংলাদেশকে। তৃতীয় উইকেটে জুটি বেধে বাংলাদেশি বোলারদের পরীক্ষা নিয়ে যাচ্ছিলেন আব্দুল মালিক আর রহমত শাহ। ইনিংসের ৪৬তম ওভারে ৭০ রানের এই জুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন।
হাফসেঞ্চুরি করা আফগান ওপেনার আব্দুল মালিকে ফেরান এবাদত। ১২০ বলে ৬২ রান করেন তিনি। এরপর নতুন ব্যাটার হিসেবে উইকেটে আসা হাশমতুল্লাহ শাহিদি টিকতে পেরেছেন মোটে ২ বল। পরের ওভারে বোলিংয়ে এসে রানের খাতা খোলার আগেই তাকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ।
এরপর আর দিনের বাকি সময়ে কোনো উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। রহমত শাহ আর ইকরাম আলীখিল দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে হতাশ করে দিনের বাকি সময় পার করে দেন। পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১৯৪ বল খেলে ৭২ রানের অপরাজিত জুটি গড়েছেন এই দুই আফগান ব্যাটার।
বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য মাথার ব্যাথার কারণ অভিজ্ঞ রহমত শাহ। হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেঞ্চুরির পথে হাটছেন তিনি। তৃতীয় দিনের সকালে এই জুটি ভাঙাই হবে বাংলাদেশের প্রধান কাজ।
এর আগে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩১৭ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ৩৩ বলে ১১ রানে অপরাজিত থেকে নাঈম হাসান আর ১০ বলে ৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠে নেমেছিলেন তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় দিনে তাদের জুটি থেকে এসেছে ৩৩ বলে ১৮ রান। দিনের ষষ্ঠ ওভারে এসে তাইজুল ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। ফেরার আগে ২০ বল থেকে ৯ রান করেন তিনি।
তাইজুল ফিরলে নাঈমকে সঙ্গ দিতে নামেন এবাদত হোসেন। তবে বেশি সময় উইকেটে টিকে থাকতে পারেননি এবাদত। ৭ বল খেলে কোনো রান না করেই ফিরে যান তিনি। এতে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৬৭ বলে ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন নাঈম। বাংলাদেশ তোলে ৩৪৬ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬/১০ (তামিম ৮৩, সাদমান ৬৭, মুমিনুল ৩৯, শান্ত ২৯, মুশফিক ০, লিটন ৫৩, মিরাজ ২৪, হাসান ২, তাইজুল ৯, এবাদত ০, নাঈম ৩৫*; আহমাদজাই ২০.৩-৩-৭৯-৩, সালিম ২৩-২-৮২-৪, হাশমতুল্লাহ ৩-০-২৪-০, ইসমাত ১২.৪-৫-২০-২, জিয়া-উর-রহমান ১৯-১-৭৭-০, কাইস ১৪.২-১-৬০-১)
আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস : ৭৯ ওভারে ২১১/৪ (অটল ১৭, আব্দুল মালিক ৬২, শাহিদুল্লাহ ২০, হাশমতুল্লাহ ০, রহমত ৮৪*, ইকরাম ২৬*; হাসান ১৬-৩-৩৬-১, এবাদত ১১-২-৫০-২, মিরাজ ২০-৭-৩৭-১, তাইজুল ২১-৪-৪৪-০, নাঈম ১০-০-৩৭-০, মুমিনুল ১-০-৬-০

স্পোর্টস ডেস্ক