অস্ট্রেলিয়ায় কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা তেমন কার্যকর নয়: গবেষণা
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে অস্ট্রেলিয়ার আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও ১৬ বছরের কম বয়সী ৮৫ শতাংশের বেশি কিশোর-কিশোরী আগের মতোই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত এ গবেষণা পরিচালনা করেছে ইউনিভার্সিটি অব নিউক্যাসল। এতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে আইন কার্যকরের আগে এবং তিন মাস পর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় টিকটক, এক্স, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারের প্রবণতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বয়স যাচাইয়ের মুখোমুখি হলেও ১৬ বছরের কম বয়সীদের ৫৪ থেকে ৬৮ শতাংশ নিজস্ব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার অব্যাহত রাখে।
গবেষকদের মতে, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত বয়স যাচাই পদ্ধতি ছিল ব্যবহারকারীর নিজে বয়স ঘোষণা করা (Self-declared age verification)। এই পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিল অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জরিপে অংশ নেওয়া ২৪ থেকে ৩৯ শতাংশ কিশোর-কিশোরী এই পদ্ধতির মুখোমুখি হয়। এ ছাড়া ১৩ থেকে ২৭ শতাংশ ব্যবহারকারী সেলফি আপলোডের মাধ্যমে বয়স যাচাই সম্পন্ন করে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, অনেক কিশোর-কিশোরী নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। অংশগ্রহণকারীদের ১৫ থেকে ১৯ শতাংশ ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেছে। অন্যদিকে ৯ থেকে ২৯ শতাংশ অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছে। প্রায় ১১ শতাংশ ব্যক্তিগত (প্রাইভেট) ব্রাউজার ব্যবহার করে বিধিনিষেধ এড়িয়েছে। তবে ভিপিএন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।
গবেষণার ফল অনুযায়ী, আইন কার্যকরের পর ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ব্যবহার কিছুটা কমলেও ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ব্যবহার বেড়েছে।
গবেষকরা বলছেন, এটি প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা এবং নমুনার সংখ্যা সীমিত হওয়ায় আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে বর্তমান ফলাফল ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গবেষণার সঙ্গে প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক ড. আমৃত কৌর পুরবা বলেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, বয়স যাচাই যদি কেবল ব্যবহারকারীর স্বঘোষিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে, তাহলে কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ঠেকানো কঠিন হবে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যসহ যেসব দেশ একই ধরনের বিধিনিষেধ চালুর পরিকল্পনা করছে, তাদের শুরু থেকেই নির্ভরযোগ্য বয়স যাচাই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আইন থাকলেও তা বাস্তবে খুব বেশি কার্যকর হবে না।
সূত্র: এনগ্যাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক