আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের তিন ব্রোঞ্জ পদক অর্জন
কাজাখস্তানে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলিম্পিয়াডে (আইওএআই ২০২৬) তিনটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
পদকজয়ীরা হলেন কুমিল্লার হোমনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির মো. সাইদুজ্জামান আরাফ এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম। দলের চতুর্থ সদস্য ছিলেন মানিকগঞ্জের মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির অনন্য যারিফ আকন্দ।
কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় অনুষ্ঠিত এবারের অলিম্পিয়াডে বিশ্বের ১০৭টি দেশের ৪৩৭ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। ২ আগস্ট শুরু হওয়া প্রতিযোগিতায় ৪ ও ৬ আগস্ট দুটি একক মেশিন লার্নিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন ছয় ঘণ্টার মধ্যে তিনটি করে সমস্যা সমাধান করতে হয়েছে প্রতিযোগীদের। গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) সমাপনী অনুষ্ঠানে সম্মিলিত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশ দলের দলনেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন বলেন, প্রথম আসরে কোনো পদক না পেলেও গত বছর দুটি ব্রোঞ্জ এবং এবার তিনটি ব্রোঞ্জ পেয়েছে বাংলাদেশ। এতে দলের ধারাবাহিক উন্নতির প্রমাণ মিলছে। তবে আরও ভালো ফলাফলের জন্য প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আরও পরিশ্রম করতে হবে।
পদকজয়ী মো. সাইদুজ্জামান আরাফ বলেন, এই পদক পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিযোগীরাও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুরে সরাসরি এবং রাজশাহী, খুলনাসহ দেশের বাকি অঞ্চলের জন্য আরও তিনটি অনলাইন ভেন্যুতে মে মাসে আঞ্চলিক পর্ব হয়। ১৬ মে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে (বিইউবিটি) জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এআই চ্যালেঞ্জের সবগুলো প্রতিযোগিতা কাগল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর ২০–২৩ মে অনুষ্ঠিত জাতীয় সিলেকশন ক্যাম্পের মূল্যায়নের পর এপিওএআইয়ের জন্য আট জন এবং আইওএআইয়ের জন্য চার জনের জাতীয় দল চূড়ান্ত করা হয়। এরপর প্রায় ২ মাস বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এর তত্ত্বাবধানে তাদেরকে অনলাইনে মেন্টরিং ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এবারে বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে ছিলেন ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সিআইএস ডিপার্টমেন্টের এসোসিয়েট প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আজম খান। পুরো অলিম্পিয়াডের একাডেমিক কোঅর্ডিনেটর হিসেবে ছিলেন তাসনিম মাহফুজ নাফিস।
বাংলাদেশ এআই অলিম্পিয়াডের আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)। প্লাটিনাম স্পন্সর ও জাতীয় পর্বের হোস্ট হিসেবে ছিল বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজিনেস অ্যান্ড টেকনলজি (বিইউবিটি)। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল রিভ চ্যাট। এছাড়া গোল্ড স্পন্সর হিসেবে ছিল ব্রেইন স্টেশন ২৩, সিলভার স্পন্সর মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশ ও ক্রিয়েটিভ আইটি, ব্রোঞ্জ স্পন্সর বিটনা এবং নলেজ পার্টনার হিসেবে সহযোগিতায় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট (আইআইটি)। ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিল কিশোর আলো ও বিজ্ঞান চিন্তা। আয়োজনের টিভি পার্টনার হিসেবে ছিল দীপ্ত টিভি এবং অন্যান্য পার্টনার হিসেবে যুক্ত আছে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি), রকমারি ডট কম ও জাদু পিসি।

নিজস্ব প্রতিবেদক