সংযোগ নয়, গুণগত ও অর্থবহ কানেক্টিভিটিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: আইসিটি মন্ত্রী
শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে এশিয়া-প্যাসিফিক টেলিকমিউনিটি (এপিটি) ওয়্যারলেস গ্রুপের ৩৭তম সভার (এডব্লিউজি-৩৭) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ১৯ কোটি ১০ লাখ মোবাইল সংযোগ রয়েছে। ১০ কোটি ৮০ লাখের বেশি গ্রাহক ফোর-জি সেবা ব্যবহার করছেন। দেশে ৪৯ হাজারের বেশি ফোর-জি সাইট, প্রায় ৪৬ হাজার টাওয়ার এবং ১ লাখ ৭৩ হাজার কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, এখন লক্ষ্য শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়; সেবার গুণগত মান, সাশ্রয়ী মূল্য, নির্ভরযোগ্যতা ও অর্থবহ কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও ফাইভ-জি-সহ ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, এডব্লিউজি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ বেতার প্রযুক্তির প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ঢাকায় এডব্লিউজি-৩৭-এর সফল আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করা, সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং টেলিযোগাযোগ সেবা আরও সাশ্রয়ী করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যারসহ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন শিল্পে দেশের সক্ষমতা বাড়িয়ে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, টেলিযোগাযোগ খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতি, আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এপিটির সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ সভার মাধ্যমে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী।
এডব্লিউজি-৩৭ সভায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নিচ্ছেন। সভায় বেতার যোগাযোগ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, উদীয়মান প্রযুক্তি, নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা ও আইনি সীমাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি এসব বিষয়ে আঞ্চলিক সুপারিশ প্রণয়ন ও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে এডব্লিউজি-৩৭ আয়োজনের মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে।
অনুষ্ঠানে বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা ছাড়াও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এপিটির মহাসচিব ড. মাসানোরি কোন্দো এবং এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপের সভাপতি ড. ডেজুং কিমও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক