অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়াবেন যেভাবে
দুপুর হওয়ার আগেই ফোনের ব্যাটারি অর্ধেকের নিচে নেমে যাচ্ছে? অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়ার পেছনে অনেক সময় থাকে কয়েকটি সাধারণ কারণ। অতিরিক্ত উজ্জ্বল ডিসপ্লে, ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকা অ্যাপ, ভুল চার্জিং অভ্যাস কিংবা কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপের অস্বাভাবিক ব্যাটারি ব্যবহার-এসব কারণে দ্রুত কমে যেতে পারে চার্জ।
কিছু সহজ সেটিংস পরিবর্তন করেই দৈনন্দিন ব্যবহারে ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্যও ভালো রাখা সম্ভব।
ডিসপ্লের সেটিংসে পরিবর্তন আনুন
ফোনের ডিসপ্লে সাধারণত ব্যাটারি খরচের অন্যতম বড় কারণ। তাই প্রথমেই স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দিন অথবা অটো-ব্রাইটনেস চালু করুন। এতে পরিবেশ অনুযায়ী ফোন নিজেই উজ্জ্বলতা সমন্বয় করবে।
স্ক্রিন বন্ধ হওয়ার সময়ও কমিয়ে ৩০ সেকেন্ড করে রাখতে পারেন। সাধারণত সেটিংস > ডিসপ্লে > স্ক্রিন টাইমআউট থেকে এ সেটিংস পরিবর্তন করা যায়।
অনেক ফোনে ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট চালু থাকে। প্রতিদিনের সাধারণ ব্যবহারে ব্যাটারি বাঁচাতে চাইলে এটি ৬০ হার্টজে নামিয়ে আনা যায়। স্যামসাং ফোনে সাধারণত সেটিংস > ডিসপ্লে > মোশন স্মুথনেস থেকে ‘স্ট্যান্ডার্ড’ নির্বাচন করা যায়। ওএলইডি বা অ্যামোলেড ডিসপ্লের ফোনে ডার্ক মোডও কিছুটা ব্যাটারি সাশ্রয় করতে পারে। তবে এর প্রভাব স্ক্রিনের উজ্জ্বলতার মাত্রার ওপর নির্ভর করে।
ব্যাটারি সেভার ও অ্যাডাপটিভ ব্যাটারি চালু করুন
ব্যাটারি সেভার বা পাওয়ার সেভিং মোড চালু করলে ফোনের কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম সীমিত হয়। সাধারণত সেটিংস > ব্যাটারি > ব্যাটারি সেভার থেকে এটি চালু করা যায়। অ্যান্ড্রয়েডের অ্যাডাপটিভ ব্যাটারি ফিচার ব্যবহারকারীর ব্যবহারের ধরন বুঝে কম ব্যবহৃত অ্যাপগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম সীমিত করতে পারে।
চার্জ দেওয়ার অভ্যাস বদলান
শুধু দিনের ব্যাটারি ব্যাকআপ নয়, দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও চার্জ দেওয়ার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভব হলে ফোনের চার্জ সব সময় ১০০ শতাংশে না রেখে প্রায় ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে। অনেক আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্যাটারি সুরক্ষার জন্য চার্জিং সীমা নির্ধারণের সুবিধা রয়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডে সেটিংসের নাম আলাদা হতে পারে। যেমন সেটিংস > ব্যাটারি > ব্যাটারি প্রোটেকশন থেকে নির্দিষ্ট চার্জ সীমা নির্বাচন করা যায়।
ফোনের ব্যাটারি পুরোপুরি শেষ করে আবার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ দেওয়ার বদলে সুযোগমতো আংশিক চার্জ দেওয়াও ব্যাটারির জন্য তুলনামূলকভাবে ভালো। দ্রুত চার্জিং সুবিধাজনক হলেও এতে বেশি তাপ তৈরি হতে পারে। আর অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ের অন্যতম কারণ।
কোন অ্যাপ বেশি ব্যাটারি খাচ্ছে দেখুন
সেটিংস থেকে ব্যাটারি ব্যবহারের তালিকা দেখুন। সাধারণত সেটিংস > ব্যাটারি > ব্যাটারি ব্যবহার অংশে গত ২৪ ঘণ্টা বা তার বেশি সময়ের ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। কোনো নেভিগেশন অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ কিংবা গেম অস্বাভাবিক পরিমাণ ব্যাটারি ব্যবহার করছে কি না, তা দেখে নিন।
প্রয়োজনে নির্দিষ্ট অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম সীমিত করা যায়। কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যাপকে ‘স্লিপ’ বা ‘ডিপ স্লিপ’-এ রাখার সুবিধা রয়েছে। এতে অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম কমে যায় বা বন্ধ থাকে।
এ ছাড়া ফোনে ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা স্পাইওয়্যার থাকলেও অস্বাভাবিক ব্যাটারি খরচ হতে পারে। তাই সন্দেহজনক অ্যাপ থাকলে তা পরীক্ষা করে সরিয়ে দেওয়া উচিত।
ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
সব সেটিংস পরিবর্তনের পরও যদি ব্যাটারি দ্রুত শেষ হতে থাকে, তাহলে ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। স্যামসাং ফোনে ‘মেম্বারস’ অ্যাপের সাপোর্ট > ফোন ডায়াগনস্টিকস থেকে ব্যাটারি পরীক্ষা করা যায়। অন্য ব্র্যান্ডের ফোনে ব্যাটারি হেলথ বা ব্যাটারি স্ট্যাটাস দেখার পথ আলাদা হতে পারে।
ব্যাটারির স্বাস্থ্য খারাপ হলে শুধু সেটিংস পরিবর্তন করে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাটারি পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
সূত্র: এনগ্যাজেট

ফিচার ডেস্ক