আবরার হত্যার বিচার চাইলেন আসামি মোর্শেদের বাবা
‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ছেলেকে স্বেচ্ছায় আদালতের হাতে তুলে দিয়েছি। আমার ছেলে আবরারকে পানি খাওয়াতে ও ডাক্তারের কাছে নিতে চেয়েছিল। আবরারকে বাঁচানোর জন্য সে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল।’
আজ রোববার বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলায় পলাতক আসামি মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তাঁর বাবা রবিউল ইসলাম। তিনি সাংবাদিদের বলেন, ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার ছেলে মোর্শেদ গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে যায়। এরপরে ৬ অক্টোবর ঢাকায় আসে। প্রথমে সে তার বড় ভাইয়ের বাসায় যায়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় হলে যায়। কিন্তু মামলায় বলা হয়েছে, ৫ অক্টোবর হলের ক্যান্টিনে আসামিরা আবরারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। মিটিংয়ে মোর্শেদ অমর্ত্য উপস্থিত ছিল। কিন্তু ওই সময় তো মোর্শেদ গ্রামের বাড়িতে ছিল। সে কী করে আবরারকে হত্যার পরিকল্পনা করে? বড় আশা করে, তাঁকে বুয়েটে ভর্তি করিয়ে ছিলাম। সে নির্দোষ। আমি নিজেও আবরার হত্যার বিচার চাই।’
এদিকে আজ সকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ (২২) হত্যা মামলার আসামি মোর্শেদ অমত্য ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ইয়াসমিন আরা এ আদেশ দেন।
আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন মোর্শেদ। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করে মোর্শেদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত ১৮ নভেম্বর ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন আদালত।
এর আগে সিএমএম আদালত মোর্শেদ অমত্য ইসলাম, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ পলাতক থাকায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেন।
নথি থেকে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলায় আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ। আবরার বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।

আদালত প্রতিবেদক