এক বছর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি আর অপেক্ষা করব না
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আইনের ওপর আস্থা রেখে এক বছর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি। আগামী ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে আর আইনের ওপর আস্থা রেখে বসে থাকব না। ৮০ ভাগ মানুষ খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। এক দফার আন্দোলন ছাড়া, সরকার পতনের আন্দোলন ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ থাকবে না।’
বিএনপি নেতা আরো বলেন, ‘আন্দোলন আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। আমাদের আন্দোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে যদি সরকার উসকানি দেয়, নৈরাজ্য সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তাহলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। কারণ আমরা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাই না। আগামী ৫ তারিখ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক রিপোর্ট প্রকাশ করেন তাহলে আদালত খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে বাধ্য হবেন। আর খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।’
আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার আব্দুস সালাম হলে ‘স্বৈরাচার পতনে ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ ডা. মিলনের আত্মত্যাগ ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এসব কথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এই সভার আয়োজন করে।
ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘স্বৈরাচার এরশাদ গায়ের জোরে দেশ শাসন করছিলেন। সেসময় সব ধরনের মানুষ আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। সেই আন্দোলনের শহীদ হন ডা. শামসুল আলম খান মিলন। তাঁর আত্মত্যাগ স্বৈরাচার এরশাদের পতন ত্বরান্বিত করে। যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে ডা. মিলন জীবন দিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীনরা সেই গণতন্ত্র ফের হরণ করেছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আরো বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছে শুধু একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার জন্য। সেটি এই সরকার করেছে। আমরা দেশনেত্রী ছাড়াই তাঁর মুক্তির লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এটা বুঝতে পেরে সরকার ২৯ ডিসেম্বর রাতেই ভোট ডাকাতি করে গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে। এদের নৈতিক কোনো ভিত্তি নেই। তারা অস্বাভাবিক সরকার। আজকে দেশের মানুষ সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনে দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
সাবেক এই মন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার ক্ষমতায় নেই। ফলে চলছে লুটপাট। কারা করছে? যারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, সেই সিন্ডিকেট। এখন বাজারে আগুন। ২০-২৫ টাকার পেঁয়াজ আড়াইশ টাকা বিক্রি হচ্ছে। চাল, লবণসহ নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। শীতের মৌসুমে সবজির দাম বাড়ছে। সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে এসব। আসলে এই সরকার জনগণের স্বার্থের সরকার নয়।’
‘আজকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা দানবে পরিণত হয়েছে। তারা মেধাবী শিক্ষার্থীদের পিটিয়ে হত্যা করেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে চাঁদা দাবি করেছে। এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করছে না। সমাজের সকল স্তরে আজকে পচন লেগেছে। এখান থেকে বাঁচতে হলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। সুতরাং গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করলে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না। আমি বিশ্বাস করি. চিকিৎসকরা আদালতে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সততার সঙ্গে প্রতিবেদন দিবেন। না হলে বুঝতে হবে সরকারের হস্তক্ষেপে তাঁরা তাদের কাজ করেন নি।’
ড্যাবের সভাপতি ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, ‘ডা. মিলন আমাদের গণতন্ত্রের জন্য প্রেরণার বাতিঘর। বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজ ভাষাআন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগ করেছেন। আজকে দেশের মানুষ ও দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করতে হলে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তবেই দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে। বর্তমানে এরশাদের চেয়েও ভয়ংকর স্বৈরাচার ক্ষমতায় আছে।’
ড্যাবের মহাসচিব ডা. আবদুস সালাম বলেন, ‘ডা. মিলনের স্বপ্ন ছিলো একটি গণমুখী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করা। সমস্ত চিকিৎসক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার স্বপ্ন দেখতেন শহীদ ডা. শামসুল আলম মিলন। তাঁর স্বপ্ন ছিলো সবাই যেন সুচিকিৎসা পায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা তাঁকে হারিয়েছি। তাঁর সুবিচার করতে পারিনি। আজকে গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় তিনি কারাগারে। তাঁকে সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে সবার আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তাঁর মুক্তি না হলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা সম্ভব হবে না।’
সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. আবদুস সালামের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম শাকিল, মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস প্রমুখ।

নিজস্ব সংবাদদাতা