কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ, মামলা নেননি ওসি
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়ায় ওই কলেজছাত্রী সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলা করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ওই কলেজছাত্রী।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, নিজ বাড়ি থেকে নিয়মিত কলেজে যাতায়াত করতেন ওই ছাত্রী। কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের রফিকুল আলমের ছেলে বখাটে নাঈম কলেজছাত্রীর যাতায়াতের পথে বিভিন্ন সময় তাঁকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। কলেজছাত্রীকে প্রেম নিবেদনসহ নানারূপ কুপ্রস্তাব দিত। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টা করে বখাটে নাঈম।
এ অবস্থায় গত ১১ নভেম্বর রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে কলেজছাত্রী ঘর থেকে বের হলে সেখানে ওত পেতে থাকা বখাটে নাঈম কলেজছাত্রীকে ধারালো অস্ত্রের মুখে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে।
এ সময় কলেজছাত্রীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে বখাটে নাঈমকে আটক করে। খবর পেয়ে নাঈমের পরিবার বিচারের কথা বলে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। পরে বিচার না হওয়ায় কলেজছাত্রী কামারখন্দ থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নেননি। এরপর ২০ নভেম্বর তিনজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন কলেজছাত্রী।
মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে কামারখন্দ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
কলেজছাত্রীর মা বলেন, ‘আসামিরা প্রভাবশালী। এ জন্য আমরা গ্রামে ন্যায়বিচার পাইনি। থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম; থানা মামলা নেয়নি। বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।’
কলেজছাত্রী বলেন, ‘বখাটে নাঈম ও তার বাবা রফিকুল আলম এলাকায় প্রভাবশালী। ধর্ষণের ঘটনায় আমরা যেন মামলা করতে না পারি, এ জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম, মামলা নেয়নি। এটি আমরা মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেছি। এ জন্য আদালতে মামলা করতে দেরি হয়েছে। আদালতে মামলা দায়েরের পর আমি ও আমার মা সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। তাঁকে বিষয়টি অবগত করেছি।’
কামারখন্দ থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম জানান, কলেজছাত্রীর অভিযোগ সত্য নয়। তারাই মামলা করতে এসে আপসের কথা বলেছে। মামলা গ্রহণ না করার কোনো কারণ নেই। মামলা করলে অবশ্যই গ্রহণ করা হবে।

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ