‘ড্রেজিং শেষ হলে বড় জাহাজ সরাসরি মোংলায় ভিড়বে’
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘চলমান ড্রেজিং প্রকল্প সম্পন্ন হলে বড় বড় বিদেশি জাহাজ সরাসরি মোংলা বন্দরে ভিড়তে পারবে। বিদেশি বড় জাহাজগুলোকে এখন পর্যন্ত আউটারবারে রেখেই সেখান থেকে পণ্য খালাস করতে হচ্ছে। প্রকল্প শেষ হলেই বন্দরে পৌঁছাতে পারবে ১০ মিটার গভীরতার এ জাহাজগুলো। বন্দরের ইতিহাসে এটিই আউটারবারের প্রথম ড্রেজিং কার্যক্রম।’
আজ শনিবার মোংলা বন্দর চ্যানেলের আউটারবার ড্রেজিং কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শনকালে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে চায় সরকার। তাই মোংলা সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধিসহ এ বন্দরের গতি বাড়াতে বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।’
প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এক সময়ের মৃতপ্রায় এ বন্দর এখন শুধু গতিশীল নয়, এ বন্দরকে ঘিরে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ চলছে। চলমান এ গতি ধরে রাখতেই প্রথমবারের মতো আউটারবার ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে।’
প্রায় ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘হংকং রিভার ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের একটি চীনা কোম্পানি মোংলা বন্দরের প্রবেশ মুখ থেকে অ্যাংকারেজ পর্যন্ত ড্রেজিং কাজ করছে। ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর একনেকে এ প্রকল্পটি অনুমোদনের পর দরপত্রে কাজ পাওয়া ওই প্রতিষ্ঠানটি গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ডাইক নির্মাণসহ খননকাজ শুরু করে। এরমধ্যে মোট কাজের ২৪ শতাংশ খননকাজ শেষ করেছে চীনা ওই প্রতিষ্ঠানটি।
আজ শনিবার দুপুরে স্পিডবোটে ড্রেজিং কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে মোংলা বন্দরের অদূরে আউটারবার এলাকায় যান নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ড্রেজিং কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বন্দরের হিরণ পয়েন্ট রেস্ট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন এবং আগামীকাল রোববার দুপুরে মোংলা বন্দরে ফিরবেন।
প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ভোলানাথ দে, কর্মকর্তা রফিক আহম্মদ সিদ্দিক, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম মোজাম্মেল হকসহ বন্দরের পদস্থ কর্মকর্তারা।

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা