পুলিশের ভুলে ২১ দিন জেলে, ক্ষমা চাইলেন এসআই
পুলিশের ভুলে কুমিল্লার ব্রাক্ষণপাড়া থেকে গ্রেপ্তার হন রাজন ভূঁইয়া। এরপর ২১ দিন কারাগারে ছিলেন। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে গত ১১ নভেম্বর রাজন জামিন পেয়ে মুক্তি পান।
জামিনের আদেশের পরে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ১-এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরশাদকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন। নির্দেশ মোতাবেক আজ বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে এসআই ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া এবং ভুক্তভোগী রাজন ভূঁইয়ার আইনজীবী নিকুঞ্জ বিহারী আচার্য্য বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
আইনজীবীরা জানান, ট্রাইব্যুনালে এসআই আরশাদ ভবিষ্যতে সতর্ক হয়ে কাজ করবেন এবং ভুলে একজনকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করলে বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান তাঁকে অব্যাহতি দেন।
এদিকে আজ এ মামলার মূল আসামি মো. হাবিবুল্লাহ রাজন একই আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করলে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ৯ মে ২৮টি নেশাজাতীয় ইনজেকশনসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন হাবিবুল্লাহ রাজন। ওইদিন তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর বংশাল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার গোপালনগরে। তাঁর বাবার নাম মো. আবদুল মান্নান। মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের এক মাসের মধ্যে জামিন পান তিনি। জামিন পাওয়ার পর তিনি আর আদালতে হাজির না হওয়ায় ২০১৩ সালের ৬ জুন মিজানের ওরফে রাজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাঠানো হলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ রাজন ভূঁইয়াকে গত ১৬ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

আদালত প্রতিবেদক