মেডিকেল বোর্ড গঠন, ‘ঢাবি ছাত্রীর মেন্টাল ট্রমা, শরীরে আঘাত রয়েছে’
ধর্ষণের শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীর চিকিৎসায় গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সালমা রউফকে প্রধান করে সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন এ কথা জানিয়েছেন।
ফরেনসিক বিভাগ, নাক-কান-গলা বিভাগ, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগসহ আরো কয়েকটি বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন।
ওই ছাত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে ঢামেক পরিচালক বলেন, ‘হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ঢাবি ছাত্রীর চিকিৎসা চলছে। তাঁর মেন্টাল ট্রমা রয়েছে। এ ছাড়া তাঁর শরীরে কিছু আঘাত রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা দিচ্ছেন। ফরেনসিক বিভাগ, নাক-কান-গলা বিভাগ, রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগসহ আরো কয়েকটি বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিকিৎসা চলবে। আশা করি সে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বান্ধবীর বাড়ি যাওয়ার পথে গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ওই ছাত্রীকে দেখতে গতকাল রাতে হাসপাতালে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান, প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ কয়েকজন শিক্ষক।
ওই ছাত্রীর সহপাঠীরা জানান, গতকাল ক্লাস শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে শ্যাওড়ায় এক বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন ওই ছাত্রী। ভুল করে এর আগের বাসস্টপ কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে নেমে পড়েন তিনি। ওই সময় ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়ার একপর্যায়ে হঠাৎ করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি পেছন থেকে তাঁর মুখ চেপে ধরে। এরপর তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে। পরে তাঁকে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে। ওই ছাত্রীকে শারীরিকভাবেও নির্যাতন করা হয় বলে জানান তাঁরা।
পরে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী নিজেই শ্যাওড়ায় তাঁর বান্ধবীর বাসায় চলে যান। সেখান থেকে আরো সহপাঠীদের জানানোর পর তাঁকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে ধর্ষণের ঘটনায় নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন ক্যান্টনমেন্ট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) জাকিয়া নুসরাত।

নিজস্ব সংবাদদাতা