২০ কিলোমিটার বেহাল সড়কে ভোগান্তি চরমে

ব্যস্ত ও জনগুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কের নাম ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক’। এই সড়ক দিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আট উপজেলার পাশাপাশি পার্বত্য জেলা বান্দরবান ও পর্যটন জেলা কক্সবাজারের জনসাধারণ সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। এর বাইরেও রয়েছে বান্দরবান ও কক্সবাজারে হাজারো পর্যটকের যাতায়াত। এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে টেকনাফ ও উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার দেওয়া ত্রাণসামগ্রীও এই সড়ক দিয়ে পৌঁছানো হয় ক্যাম্পে। আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও নানা পর্যায়ের কর্মকর্তারা যাতায়াত করে এই সড়ক দিয়ে। সব মিলিয়ে এটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিবেবে বিবেচিত। তবু প্রায় ২০ কিলোমিটার ভাঙা সড়ক নিয়ে ভোগান্তি যেন চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তা দিয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। ব্যাপক গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রী সাধারণ ও যানবাহন চালক-হেলপারদের মধ্যে ক্ষোভের শেষ নেই। দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগ সৃষ্ট গর্তগুলোতে ইট-বালি দিয়ে ভরাট করে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করে। তবে দিন শেষে আবারও ‘যে লাউ সেই কদু’ অবস্থা।
পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, চন্দনাইশ উপজেলার সীমানা দোহাজারী পেরিয়ে সাতকানিয়ার বিওসির মোড়, মৌলভীর দোকান, উত্তর সাতকানিয়া জাফর আহমদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ এলাকা, নয়াখালের মুখ, অল কেয়ার হাসপাতাল ভবন, খুনি বটতলা, কেরানীহাট, সাতকানিয়া রাস্তার মাথা, মাদারবাড়ী, ঠাকুরদিঘী, পদুয়া দিঘীর পাড়া, বার আউলিয়া ফরেস্ট গেইট, বার আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ, গ্যারেজ, রাজঘাটা, কিল্লার আন্দর, আমিরাবাদ মোটর স্টেশন ও আধুনগর বাজার, চুনতি ডেপুটি বাজার এলাকা জুড়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে যেন কাঁদাজলে একাকার হয়ে ওঠে। এর মধ্যে পদুয়া তেওয়ারী হাট থেকে বার আউলিয়া ফরেস্ট গেইটের মধ্যবর্তী অংশটির অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তায় সৃষ্ট গর্ত ডিঙিয়ে যানবাহন চলাচল অনেকটা কঠিন। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক যানজট।
এ সড়কে নিয়মিত যানবাহনে যাতায়াত করেন শিক্ষক মোস্তাক আহমদ। সড়কের অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নিয়মিত কেরানীহাট থেকে আমিরাবাদে যাতায়াত করি। সড়কে ব্যাপক গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় মানুষের অনেক শ্রম ঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। দেশে বড় বড় প্রকল্প বাস্তায়নের কারণে বিভিন্ন মহলে বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন প্রশংসনীয় হলেও এ সড়কটির দুরাবস্থার কারণে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।’
এই সড়কে যাতায়াত করা গাড়িচালক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘সড়কটির অবস্থা এত বেশি খারাপ যে, গাড়ি চালানো অনেকটা কঠিন। তার পরেও জীবিকার তাগিদে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। সড়ক জুড়ে ব্যাপক গর্তের কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।’
কেরানীহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ধর্মীয় সম্পাদক মোহাম্মদ ইসমাইল সিকদার বলেন, ‘কেরানীহাটের উত্তর মাথা থেকে দক্ষিণ মাথা পর্যন্ত সড়কে বেশ বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি কেরানীহাটে প্রতিদিন আগত হাজারো যাত্রী ও ক্রেতা-বিক্রেতাকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ বলেন, ‘এ সড়কটি সংস্কারে ঠিকাদার কাজ করছে। বৃষ্টির কারণে সংস্কার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে পুরোদমে সংস্কার শুরু হবে। তখন আর ভোগান্তি থাকবে না।’