শাবিপ্রবি বন্ধের প্রতিবাদে উপাচার্য অবরুদ্ধ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূঁইয়াকে তাঁর কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য ছাত্রলীগের পক্ষগুলোকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ক্লাস-পরীক্ষা ও হল বন্ধ ঘোষণা করলে এর প্রতিবাদে আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, অনতিবিলম্বে ক্যাম্পাস খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন স্বাভাবিক করা হোক।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান সমর্থিত পক্ষকে সিনিয়র সহসভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ, সহসভাপতি অঞ্জন রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজ সমর্থিত সম্মিলিত পক্ষ ধাওয়া দিয়ে শাহপরাণ হলের কিছু কক্ষের দখল নেয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে রাতভর সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১২টার দিকে অস্ত্র উদ্ধারে হল তল্লাশি করে পুলিশ।
আজ সকালে রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বার্তায় ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘোষণার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁরা অনতিবিলম্বে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার দাবিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় সড়কের দুই পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে এলাকাবাসী শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়। শিক্ষার্থী-পুলিশের মধ্যে এক সমঝোতার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবন ঘেরাও করে ক্যাম্পাস সচলের দাবি জানায়।

এ সময় বেশ কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের আসতে দেখে উত্তেজিত হয় শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেনের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে প্রস্তুত থাকতে দেখা গেছে।
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিদ্যুৎ ও ডিস লাইনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যা ৬টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হক। তিনি পুনরায় সিন্ডিকেট সভা ডেকে ক্যাম্পাস খোলার কথা জানান শিক্ষার্থীদের। এ জন্য তাঁদের উপাচার্য ভবনের তালা খুলে দেওয়া ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। রেজিস্ট্রারের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তালা খুলে দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র সমন্বিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘পুনরায় সিন্ডিকেট সভা ডাকায় আমরা উপাচার্য ভবনের তালা খুলে দিয়েছি এবং বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করেছি। তবে ভবনের সামনে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না হলে পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে জানতে শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূঁইয়াকে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তদন্ত কমিটি : বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং হলের কক্ষ দখলের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতি তদন্ত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ দুপুর ১২টার দিকে জরুরি সিন্ডিকেট সভা শেষে রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন জানান, সিভিল অ্যান্ড এনভায়রমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলমকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. শরদিন্দু ভট্টাচার্য, বঙ্গবন্ধু ছাত্র হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এস এম হাসান জাকিরুল ইসলাম, শাহপরাণ হলের প্রাধ্যক্ষ শাহেদুল হোসাইন এবং সহকারী প্রক্টর আলমগীর কবির।

শাবিপ্রবি সংবাদদাতা