মাসে একদিন, গাড়িবিহীন
প্রায় ১০ বছর আগের কথা। ২০০৭ সালে চীনের যেসব প্রদেশে যানজট খুব বেশি, সেখানে এক নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্যোগটি হলো সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা। ফলাফল হাতেনাতে! শহরে জ্যাম কমে গেল অনেকখানি।
চীনে এই উদ্যোগে সফলতার পর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তা ছড়িয়ে পড়ল। আর এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হলো ‘নো কার ডে’।
চীনা ওই উদ্যোগের নয় বছর পরে ২০১৬ সালে আমাদের বাংলাদেশেও এই ‘নো কার ডে’ পালন শুরু হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ, আমাদের প্রাণের শহর ঢাকা এখন বিশ্বের অন্যতম ট্রাফিক জ্যামবহুল শহর।
এই জ্যামের কারণে নগরবাসী মানুষের দুর্ভোগও চোখে লাগার মতোই। দিনের অনেক মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হয় এই রাস্তাতেই।
এই জ্যামের হাত থেকে অন্তত একটা দিন রক্ষা পেতে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক আরাফাত নোমান বাংলাদেশে শুরু করেছিলেন এই উদ্যোগ।
এক বছর আগে তিনি তাঁর শিক্ষার্থী, বন্ধু,সহকর্মী ও প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন এই ‘নো কার ডে : বাংলাদেশ’-এর পথচলা। তাঁর এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতি মাসের শেষ বুধবারটিতে শহর যাতে যানজটমুক্ত থাকে। মহৎ এই উদ্যোগের এক বছর পূর্ণ হলো গতকাল বুধবার।
দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশে ‘নো কার ডে’ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্তরা রাজধানীর হাতিরঝিলে রাস্তার দুইপাশে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালায়। এদিনে ‘নো কার ডে’র সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আরো ছয়টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই সংগঠনগুলো হলো অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, রানার বাংলাদেশ সোসাইটি, অহনিশ ফিল্মস, হেল্প দ্য ফিউচার, মিরপুর রাইডার্স এবং হেল্পিং হ্যান্ডস।
এক বছর ধরে চলা এই উদ্যোগ সম্পর্কে আরাফাত নোমান বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমরাও এগিয়ে যাচ্ছে। সঙ্গে অন্যদের মতো আমাদের ঘাড়েও জুটছে নানা নাগরিক অসুবিধা। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো নগরে ট্রাফিক জ্যাম।’
“এই সমস্যা লঘু করতে বাংলাদেশে ‘নো কার ডে’ আন্দোলনের পথচলা শুরু। এ জন্য আমরা রাস্তায় রাস্তায় লিফলেট দিয়েছি, অনলাইনে প্রচারণা চালিয়েছি, বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে প্রচারণা চালিয়েছি, প্ল্যাকার্ড হাতে হাতিরঝিলে দাঁড়িয়েছি—সচেতনতা তৈরি করার দিকে মনোযোগ দিয়েছি। আশার কথা এই যে, অল্পবিস্তর সবাই এখন বিষয়টা জানেন, বিশেষ করে ঢাকাবাসী মানুষ”, বলেন ঢাকাকে একটি যানজটমুক্ত শহরের স্বপ্ন দেখা শিক্ষক আরাফাত নোমান।
.jpg)

অনলাইন ডেস্ক