চিকিৎসা ব্যয়ে বিশ্বে ১০ কোটি মানুষ অতিদরিদ্র হয়ে পড়ছে
পৃথিবীর ৮০ কোটি মানুষ তাদের পরিবারের মোট ব্যয়ের অন্তত ১০ শতাংশ চিকিৎসাসেবা গ্রহণে নিজেদের পকেট থেকে ব্যয় করে। আর ১০ কোটি মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণের খরচ বহন করতে গিয়ে অতিদরিদ্র হয়ে পড়ছে। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে বিশ্ব স্থাস্থ্য দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে হলে ২০২৩ সালের মধ্যে পৃথিবীর আরো ১০০ কোটি মানুষকে অতি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুবিধার আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং চিকিৎসাসেবা ব্যয় বহন করতে গিয়ে যে ১০ কোটি মানুষ অতিদরিদ্র হয়ে পড়ছে তাদের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ এ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জাতিসংঘ ঘোষিত ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের চতুর্থ সেক্টর কর্মসূচিতে অত্যাবশ্যকীয় সেবা প্যাকেজ হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণোয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা অর্থায়ন কৌশলপত্র তৈরি এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি সেল গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট ও সুপারিশের বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের সাধারণ জনগোষ্ঠী বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের জন্য উন্নততর ও সহজলভ্য মানসম্মত সেবা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশে একটি কার্যকর এবং গ্রহণযোগ্য সেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্য খাতের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- মাতৃ মৃত্যুহার কমিয়ে আনা, সংক্রামক ও অসাংক্রামক ব্যাধির বিস্তার রোধ করা, সার্বিক প্রজনন হার ও অনাকাঙ্ক্ষিত প্রজনন হার হ্রাসকরণ এবং মহিলা ও পুরুষের গড় আয়ু, প্রথম সন্তান জন্মের সময় মায়ের বয়স, পুষ্টির মান ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিকরণ। বর্তমানে প্রায় ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে জনগণ স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে। উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন নতুন হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালরে শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিক সুযোগ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলা হয়, চিকিৎসা খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরির জন্যও সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ অন্যান্য চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছে সরকার। সরকারের বর্তমান মেয়াদে ১৩ হাজার ডাক্তার, ১৫ হাজার নার্স ও ১৬ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরেই নতুন করে আরো ১০ হাজার ডাক্তার, পাঁচ হাজার নার্স ও ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
চিকিৎসাব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলে বার্ধক্যে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যা বেড়েছে এবং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জটিল রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা। ফলে দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নিজস্ব পকেট থেকে উচ্চ হারে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে মানুষকে। এতে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এম এ নোমান