গ্যাস লাইনে ছিদ্র, বাড়ছে দুর্ঘটনা
সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে গ্যাস লাইনে ছিদ্রজনিত দুর্ঘটনা। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির হিসাবে, এই ধরনের দুর্ঘটনা ২০১৩-১৪ সালে ছিল তিন হাজার ৮১৯টি। ২০১৪-১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ১২৩-এ। ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞতা বলছে- একই কথা।
সর্বশেষ রাজধানীর উত্তরায় ওই কারণে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন, যেখানে এরই মধ্যে মারা গেছে তিনজন। সংশ্লিষ্টরা এজন্য ব্যক্তির অসচেতনতাকে দায়ী করলেও গ্যাসের লাইনে ঘন ঘন ছিদ্র কেন হচ্ছে বা কার অবহেলায় হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার ওপরও জোর দিচ্ছেন তাঁরা।
গত শুক্রবার সকালে গ্যাস লাইনে ছিদ্র থাকায় আগুন লেগে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যারা এখনো বেঁচে আছে তাদের অবস্থাও কম বেশি একই রকম। উত্তরার ওই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, সচেতন না হলে প্রতিটি বাড়ি হতে পারে এক একটি মৃত্যুকূপ।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ বলেন, ‘গ্যাস লিক (ছিদ্র) হলে বোঝা যায়, শব্দ হবে, গন্ধ আছে। আলামত বুঝতে পারলে কোনো অবস্থাতেই আগুন জ্বালানো, সুইচ বন্ধ, চালু করা, মোবাইল ব্যবহার করা উচিত না।’
শাকিল নেওয়াজ আরো বলেন, ‘এসব দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশি হচ্ছে। নতুন গ্যাস সংযোগ নিতে যারা যায় এবং যারা সিলিন্ডার গ্যাস সংযোগ নিচ্ছে সেক্ষেত্রে হচ্ছে।’
তিতাস কর্তৃপক্ষ বলছে, সচেতনতার জন্য বেশ কয়েকটি ধাপ রয়েছে। সেটা যেমন রয়েছে রান্নাঘরে তেমনি বয়েছে বাড়ির যে রাইজারের মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়েছে সেখানেও।
তিতাস গ্যাসের উপমহাব্যবস্থাপক ফয়জার রহমান বলেন, ‘গ্যাস বন্ধের দুটি উপায় আছে। হাউস লাইনের সাইডেও আছে। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে রাইজার বন্ধ করে সকালে চালু করা হলে আমি মনে করি শতভাগ দুর্ঘটনামুক্ত থাকা যাবে।’
ফয়জার রহমান আরো বলেন, ‘চুলার সঙ্গে হাউজ লাইনে যে সংযোগটি থাকে সেখানে অনেক সমস্যা আমরা দেখতে পাই। সেটা অনেক সময় ত্রুটিপূর্ণ থাকে। সেখান থেকেই লিকেজটা বেশির ভাগ সময়ে দেখা দেয়। অবৈধ গ্যাসের সংযোগ, রাস্তা খননকালে আমাদের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত করে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে ঘরে প্রবেশ করে দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

নিজস্ব প্রতিবেদক