বান্দরবানে বুদ্ধমূর্তি স্নানে হাজারো মানুষের ঢল
বান্দরবানে বুদ্ধমূর্তি স্নান উৎসবে নেমেছিল শত মানুষের ঢল। বুধবার সাংগ্রাই উৎসবের দ্বিতীয় দিন কেন্দ্রীয় বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ উচহ্লা ভান্তের নেতৃত্বে রাজগুরু কিয়াং হতে সারিবদ্ধভাবে বৌদ্ধধর্মীয় গুরুরা (ভান্তেরা) কষ্টিপাথর এবং স্বর্ণের বুদ্ধমূর্তিসহকারে হেঁটে নদীর চড়ে উজানীপাড়ায় সাঙ্গু নদী চরে গিয়ে সমবেত হয়।
পরে সাঙ্গু নদী চরে আয়োজিত সমবেত প্রার্থনায় বিশ্ববাসীর সুখ-শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন দেশের অন্যতম বৌদ্ধধর্মীয় গুরু উচহ্লা ভান্তে। প্রার্থনায় অন্যদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, বান্দরবান পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবীসহ শতাধিক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অংশ নেয়।
মারমা সম্প্রদায় ছাড়াও সমবেত প্রার্থনায় চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, হিন্দু, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ এবং তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোরদের ঢল নামে। প্রার্থনা শেষে বুদ্ধমূর্তিকে চন্দন কাঠের পবিত্র পানি দিয়ে স্নান করানো হয়।

বুদ্ধমূর্তির স্নানের পানি বোতল এবং বিভিন্ন পাত্রে করে ঘরে নিয়ে যায় মারমা সম্প্রদায়। তাদের বিশ্বাস, বুদ্ধমূর্তি স্নানের পানি পান করলে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
সংগ্রাই আয়োজক কমিটির সভাপতি মংচিংনু মারমা জানান, বৃহস্পতিবার ১৪ এপ্রিল রাজগুরু ক্যায়াংএ হাজারো প্রদীপ প্রজ্বালন, উজানীপাড়া, মধ্যমপাড়া, জাদীপাড়াসহ বিভিন্ন পাহাড়ি পল্লীগুলোতে তরুণ-তরুণীদের পিঠা তৈরির প্রতিযোগিতার আয়োজন রয়েছে।
রাতব্যাপী সারিবদ্ধভাবে বসে তরুণ-তরুণীরা হরেক রকমের পিঠা তৈরি করে পাড়া-প্রতিবেশীদের ঘরে ঘরে বিতরণ করবেন। এ ছাড়া আগামী ১৫-১৬ এপ্রিল রাজারমাঠে দুদিনব্যাপী জলকেলী বা মৈত্রী পানিবর্ষণ খেলা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দুদিন সন্ধ্যায় রাজারমাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মারমা শিল্পী গোষ্ঠীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের স্থানীয় শিল্পী গোষ্ঠীগুলো নাচ-গান পরিবেশন করবে।


আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান