ভৈরবে তিন দলের ১২ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
সদ্য সমাপ্ত চতুর্থদফা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাত ইউনিয়নে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১২ চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন আইনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগের চেয়েও কম ভোট পাওয়ায় এসব প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মে শনিবার অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে আগানগর, গজারিয়া, শ্রীনগর, শিবপুর ও কালিকাপ্রসাদ- এই পাঁচ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পাঁচজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। এর মধ্যে শ্রীনগর ইউনিয়নের মো. মোশারফ হোসেন হেলিম ছাড়া কেউই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি। এমন কি নিজেদের জামানত রক্ষাও করতে ব্যর্থ হয়েছেন গজারিয়ার রতন মিয়া, কালিকাপ্রসাদের মো. লোকমান মিয়া, শিবপুরের মোহাম্মদ হোসেন, আগানগরের মো. মতিউর রহমান।
দলের মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়লেও এই ভরাডুবির ব্যাপারে জানতে চাইলে ভৈরব পৌর বিএনপির সভাপতি ও ইউপি নির্বাচন পরিচালনার অন্যতম সমন্বয়ক হাজি মো. শাহীন বলেন, ‘সারা দেশের ইউপি নির্বাচনের হালচাল দেখে স্থানীয় প্রার্থীদের অনাগ্রহ এবং ভৈরবে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা মোকদ্দমা থাকায় এই নির্বাচনে ভালো ফিগারের কোনো প্রার্থী আমরা দিতে পারিনি। তাই নির্বাচনের ফলাফল এমন হয়েছে।’ তবে দলের জনপ্রিয়তার বিষয়ে এই নির্বাচনের ফলাফলকে তিনি কোনোভাবেই জনপ্রিয়তার মাপকাঠি মানতে নারাজ।
অপরদিকে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে পাঁচজন চেয়ারম্যান প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয় জাতীয়পার্টি। এরা সবাই দলীয় প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাঁদের জামানত হারিয়েছেন। এঁরা হলেন, গজারিয়া ইউনিয়ন থেকে মো. মধু মিয়া, কালিকাপ্রসাদে মো. কামাল খান, আগানগরে আব্দুস ছাত্তার, শ্রীনগরে জসিম উদ্দিন এবং শিবপুরে মো. খোকন মিয়া।
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মো. সাঈদ মিয়া, গজারিয়ায় মো. ইমরান মিয়া ও কালিকাপ্রসাদে আব্দুর রউফকে দলীয় মনোনয়ন দেয়। এই তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী দলীয় প্রতীক হাতপাখা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবাই তাঁদের জামানত হারিয়েছেন।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব