ভৈরবে সম্মিলন সম্মাননা ও অদম্য মেধাবৃত্তি প্রদান
অর্থনীতিসহ শিক্ষা, ক্রীড়া, সাহিত্য ও শিল্প-সংস্কৃতিতে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে মূল্যবোধ আর নৈতিকতার ঘাটতির কারণে সঠিক গতিতে এগুতে পারছে না দেশ ও সমাজ। সে ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি দেশের আদর্শবানদের অনুসরণ করতে হবে।
আজ শুক্রবার দুপুরে ভৈরবে সম্মিলন ফাউন্ডেশন আয়োজিত সম্মিলন সম্মাননা ও সম্মিলন অদম্য মেধাবৃত্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নগরবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
অধ্যাপক নজরুল ইসলাম তাঁর বক্তৃতায় আরো বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় দেশে মাত্র ছয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। আর বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১৩০টি। শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা কোনো উন্নয়নশীল দেশ তো নয়ই, কোনো উন্নত দেশের জন্যও এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা কঠিন হবে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে একটি মফস্বল শহরের শিক্ষা উন্নয়নে সম্মিলন ফাউন্ডেশনের চলমান কার্যক্রমকে অত্যন্ত প্রশংসার দাবি রাখে বলে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক এ চেয়ারম্যান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ভৈরব পৌরসভার মেয়র, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফখরুল আলম আক্কাছ, বিশিষ্ট শিশু সংগঠক শরীফ আহমেদ, ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপিকা রওশন আরা বেগম এবং কবি, গল্পকার, কলামিস্ট ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের (ইউল্যাব) মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজমের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুমন রহমান।
দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় জিল্লুর রহমান পৌর মিলনায়তনে সম্মিলন মেধাবৃত্তি ২০১৬-এর আহ্বায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জাভেদের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ফারুক, নাট্যকার সাগর রহমান, শিশুসংগঠক আতিক আহমেদ সৌরভ, সম্মিলন বৃত্তি ২০১৬-এর সদস্য সচিব মুহম্মদ ছামিউজ্জামান সুমনসহ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক প্রতিনিধিরা।
আলোচনা শেষে প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা ২০১৫ সালে ভৈরব উপজেলায় প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৮২ জনকে সম্মিলন মেধাবৃত্তি ও সম্মাননা এবং ১৬ জন অদম্য মেধাবীকে সম্মিলন অদম্য মেধাবৃত্তি ও সম্মাননা দেন।
এর আগে বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা প্রধান অতিথিসহ অন্য অতিথিদের সঙ্গে ভৈরব বাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পাদদেশে ফটোসেশনে অংশ নেয়।

মোস্তাফিজ আমিন, ভৈরব