সিরাজদিখানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, গুলিসহ আটক ২
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে একটি বাড়িতে গভীর রাতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে ঘরের লোকজনকে জিম্মি করে ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় জনতা দুই ডাকাতকে আটক করে পুলিশে দেয়।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দিনগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নের খারখোলা গ্রামের প্রেমানন্দ মণ্ডলের বাড়িতে।
রাতের নিস্তব্ধতায় ৮-১০ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাতদল জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা প্রেমানন্দ মণ্ডল, তার স্ত্রী, ছেলে ও পুত্রবধূকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে আটক রেখে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে লুটপাট চালায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য পঙ্কজ মণ্ডল জানান, ডাকাতরা তাকে মারধরও করেছে। ডাকাতদের হাতে ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। তারা ঘরে থাকা ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার, এক ভরি ছয় আনা রুপা ও নগদ ৮৩ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়।
তবে ডাকাতি শেষে পালানোর সময় এলাকাবাসী এক ডাকাতকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়। ওই ডাকাতের নাম ইমরান বেপারী (২৪)। তার বাড়ি বরগুনা সদর থানার জাকিরচর গ্রামে।
শেখরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. তাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার পর পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একজনকে এবং পরে অভিযান চালিয়ে আরও একজনকে আটক করে। তাদের নাম ইমরান বেপারী ও শাহিন হাওলাদার (৪৫)। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ইনচার্জ মো. তাজুল ইসলাম আরও জানান, প্রেমানন্দ মণ্ডলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো। তার এক ছেলে বিদেশে থাকেন, অন্যজন ঢাকায় চাকরি করেন। ডাকাতদল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই বাড়িটি টার্গেট করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিরাজদিখান সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম জানান, আটক হওয়া শাহিন বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে। অন্যজন গণপিটুনি খাওয়ায় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। ডাকাতদের কাছ থেকে সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার হলেও অস্ত্র পাওয়া যায়নি। অস্ত্র উদ্ধারসহ অন্য ডাকাতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মঈনউদ্দিন সুমন, মুন্সীগঞ্জ