দৌলতদিয়ায় বাসডুবির ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি গঠন
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় ডুবে যাওয়ার ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান জানিয়েছেন, রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা তিন কার্য দিবসের মধ্যে তাদের রিপোর্ট প্রদান করবেন।
এছাড়া নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিউদ্দিন ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। তারাও তিন কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন। রিপোর্টের পরেই আমরা জানতে পারব আসলে কী ঘটনা ঘটেছিল।
এখন পর্যন্ত ৭ জনকে জীবিত উদ্ধার ও ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ১৫টির পরিচয় শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে লাশ দাফনের জন্য প্রতি পরিবারকে পঁচিশ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এছাড়া আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে দেয়া হবে। এরপর মৃতের পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার।
গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে দুই নারীর পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—রাজবাড়ীর ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বেগম (৬০) ও মর্জিনা বেগম (৫৫)। এ ছাড়া নুসরাত (২৯) নামের এক নারী চিকিৎসক আহত হয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। তবে আপাতত উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানান, যাত্রীবাহী বাসটি পন্টুনে থাকা অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে ডুবে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালালেও আপাতত উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর