অক্টোবরে প্রায় ২০৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এ বছরের অক্টোবর মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ২০৬ কোটি ৪২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে।
বিজিবির সদরদপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে সরকারি ছুটি যেসব তারিখে
এতে বলা হয়, জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- তিন কেজি ২৬২ দশমিক ৭৬ গ্রাম স্বর্ণ, ১১ কেজি ৪১০ গ্রাম রূপা, ৩৩ হাজার ৯১০টি শাড়ি, ১৯ হাজার ৫৮০টি থ্রিপিস বা শার্টপিস বা চাদর বা কম্বল, ১৬ হাজার ৯৯১টি তৈরী পোশাক, ৫৬৯ মিটার থানকাপড়, এক লাখ ৭১ হাজার ৯৪৬টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ছয় হাজার ২২৭ পিস ইমিটেশন গয়না, ১৭ লাখ ৬১ হাজার ৫২৬টি আতশবাজি, ছয় হাজার ৫২ ঘনফুট কাঠ, চার হাজার ৫৮৯ কেজি চা পাতা, ১০ হাজার ৩৯২ কেজি সুপারি, ৩১ হাজার ৬৫১ কেজি কয়লা, ৫৩৫ ঘনফুট পাথর, ৩৭ হাজার ৩৫৫ কেজি সুতা বা কারেন্ট বা দুয়ারি জাল, ২৫১টি মোবাইল, ৩১ হাজার ৬৭৮টি মোবাইল ডিসপ্লে, ৪৮ হাজার ২৮৬টি চশমা, ৪০ হাজার ৮২৬ কেজি জিরা, ৯ হাজার ৯১৪ কেজি চিনি, ২৬ হাজার ৪৫৮ কেজি পেঁয়াজ, ৬০১ কেজি রসুন, পাঁচ হাজার ৩৭৮ প্যাকেট বিভিন্ন প্রকার বীজ, সাত হাজার ৬৯০ কেজি সার, পাঁচ হাজার ২৪ প্যাকেট কীটনাশক, তিন হাজার দুই লিটার ডিজেল, এক লাখ ৯ হাজার ৭৩২ পিস চকলেট, দেড় হাজার গরু বা মহিষ, ১০টি ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান, ২১টি পিকআপ বা মহেন্দ্র, দুটি ট্রাক্টর, চারটি প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস, ৯টি ট্রলি, ১৯৭টি নৌকা, ৩২টি সিএনজি বা ইজিবাইক, ৪৯টি মোটরসাইকেল এবং ৩০টি বাইসাইকেল বা ভ্যান।
চারটি পিস্তল, একটি রিভলভার, তিনটি মর্টার সেল, ছয়টি হ্যান্ড গ্রেনেড, তিনটি ম্যাগজিন, ৫৩ রাউন্ড গোলাবারুদ, ২৫০ গ্রাম বিস্ফোরক, দুটি ডেটোনেটর এবং সাতটি অন্যান্য অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন : বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না এনজিওকর্মীর
এতে আরও বলা হয়, গত মাসে বিজিবি বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৪৬২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, তিন কেজি ২০৫ গ্রাম হেরোইন, পাঁচ হাজার ৪৬৫ বোতল ফেনসিডিল, ১০ হাজার ৫৮২ বোতল বিদেশি মদ, ২৫১ দশমিক পাঁচ লিটার বাংলা মদ, এক হাজার ২৬৭ ক্যান বিয়ার, এক হাজার ৭৮২ কেজি ২৪০ গ্রাম গাঁজা, এক লাখ ৩০ হাজার ৭৫৯ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৫৫ হাজার ৯১৭টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট বা ইনজেকশন, চার হাজার ৮২ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ছয় হাজার ৩০৯টি এ্যানেগ্রা বা সেনেগ্রা ট্যাবলেট, ১৩০ কেজি ইয়াবা পাউডার এবং সাত লাখ ২৭ হাজার ৭৬৮ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ ও অন্যান্য ট্যাবলেট।
সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮৪ চোরাচালানি এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ২১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক ও তিনজন ভারতীয় নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টার সময় ৪৯৩ জন মিয়ানমার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)