সূর্যের রোদে কেমিক্যালমুক্ত শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত কুয়াকাটার জেলে
শীতের আগমনীর সঙ্গে সঙ্গে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে কেমিক্যালমুক্ত শুঁটকি উৎপাদনের ধুম। সূর্যের রোদে ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে শুঁটকি প্রস্তুতের এই কর্মযজ্ঞে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। বছরের নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এই শুঁটকি মৌসুমে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুয়াকাটার বিভিন্ন শুঁটকি পল্লী কর্মচাঞ্চল্যে মুখর থাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ উপকূলজুড়ে সারি সারি বাঁশের মাচায় বিভিন্ন প্রকার মাছ বিছিয়ে শুকানো হচ্ছে। নারী-পুরুষ শ্রমিকেরা মাছ উল্টেপাল্টে দেওয়া, মাচা তৈরি, ট্রলার মেরামত এবং জাল-দড়ি প্রস্তুতের কাজ নিয়ে পুরোদমে ব্যস্ত। জেলেদের মতে, এই সময়টায় তাদের দম ফেলার ফুরসত থাকে না।
কুয়াকাটার শুঁটকি পল্লীর জেলেরা জানান, তারা সম্পূর্ণ কেমিক্যালমুক্ত উপায়ে মাছ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে শুধু রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করেন। সাগর থেকে আহরিত লইট্টা, ছুরি, লাক্ষ্যা, চাপিলা, রূপচাঁদা, ছোট পোয়া, চিংড়ি ও ফাঁইশ্যাসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির মাছ এখানে শুকানো হয়। সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে লইট্টা শুঁটকির।
স্থানীয় নারী শ্রমিক সেতারা বেগম জানান, শীত শুরু হলেই তাদের কাজের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শুঁটকি উৎপাদন কার্যক্রমে এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।
শুঁটকি মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাহমুদ জানান, বর্তমানে প্রতি মণ বড় চিংড়ি শুঁটকি ৪০ হাজার টাকা এবং লইট্টা শুঁটকি ৩৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা ভালো থাকায় তারা এবারের মৌসুমে লাভবান হওয়ার আশা করছেন। প্রতিটি মৌসুমে এখান থেকে কোটি কোটি টাকার শুঁটকি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শুঁটকি মৌসুম চলে। জেলেদের আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ দিই। পরিচ্ছন্নতা, প্রাকৃতিক উপায়ে শুকানো এবং বাজারজাতকরণ- সবকিছু নিয়েই তাদের নিয়ে কাজ করছি। এবারের মৌসুমে চার হাজার মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা আশা করি ছাড়িয়ে যাবে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে শুঁটকি উৎপাদন হওয়ায় কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। তাই সকল উৎপাদনকারীকে একটি নির্দিষ্ট ছাতার নিচে এনে শুঁটকি উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এতে পরিবেশ ও পর্যটকদের সুবিধাও নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)