ভারত থেকে দেশে ফিরল পাচার হওয়া ২৯ বাংলাদেশি
ভারতে পাচার হওয়া ও অনুপ্রবেশ করা ২৯ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ ও শিশুকে বেনাপোল দিনাজপুর দিয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিট ও আলোচনার মাধ্যমে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ ও বিজিবি। এদের মধ্যে ১৬ পুরুষ, আট নারী ও পাঁচ শিশু রয়েছে।
আজ বৃহস্প্রতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে ২৪ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করে।
তারা খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল, রাজশাহী, নোয়াখালী, গোপালগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, ভালো কাজের আশায় আড়াই বছর আগে তারা দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতের মুব্বাই গিয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন কাজ করার সময় পুলিশের হাতে আটক হয় তারা। এরপর অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সে দেশের আদালত তাদের দুই বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। কারাভোগ শেষে ভারতের একটি এনজিও সংস্থা তাদের দায়িত্ব নিয়ে শেল্টারহোমে রাখে। পরে উভয় দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় এবং ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে আজ রাত ৮টার দিকে তারা দেশে ফিরে।
ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামের একটি এনজিও সংস্থা গ্রহণ করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের যশোরের প্রোগ্রাম অফিসার মুহিত হোসেন জানান, ফেরত বাংলাদেশিদের বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে দিনাজপুরের (৪২ বিজিবি) কিশোরীগঞ্জ বিওপির বিপরীতে ৬৩/রাধিকাপুর বিএসএফ ক্যাম্পের এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩১/২ এস হতে আনুমানিক ৩০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে গতকাল ১৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে রাধিকাপুর নামক স্থান হতে বাংলাদেশি নাগরিক পাঁচজনকে (পুরুষ-৪, মহিলা-১) অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের সময় বিএসএফ টহলদল আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
আটক বাংলাদেশি নাগরিকরা হচ্ছেন, ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার চোপড়া গ্রামের মলিন চন্দ্র রায়ের ছেলে সাদ্দাম রায় (১৯) ও একই গ্রামের প্রিয়নাথের ছেলে নয়ন রায় (২১), পীরগঞ্জ উপজেলার বেলশুয়া গ্রামের কালিদাস রায়ের ছেলে অমল রায় (২২), একই উপজেলার নানুহার গ্রামের দুর্জয় রামের ছেলে প্রসাদচন্দ্র রায় (৪৬) ও তার স্ত্রী পারুল রানী (৪৪) বলে বিজিবির দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সীমান্ত পিলার ৩৩১ হতে পাঁচ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে খোপড়া নামক স্থানে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।
পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৪২ বিজিবির কিশোরীগঞ্জ কোম্পানি কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. হাবিবুর রহমান এবং বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬৩ বিএসএফ চাঁদগাঁও কোম্পানি কমান্ডার এসি সুরিয়া পাল।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদের বিরল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এদিকে বিরল থানার ওসি মো. আল এমরান পাঁচ বাংলাদেশিকে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

মহসিন মিলন, বেনাপোল
ফারুক হোসেন, দিনাজপুর