বিএনপির ইশতেহার যেভাবে ‘মূল্যায়ন’ করছে ভারত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, প্রভুত্ব নয়’— এই নীতির আলোকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যা ও পানি বণ্টন ইস্যুতে দলটির পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এই ইশতেহার নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ‘তারেক রহমানের বিএনপির ইশতেহার : ভারতের দৃষ্টিকোণে ব্যাখ্যা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইশতেহারে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে তারা সীমান্ত হত্যা, পুশ-ইন ও চোরাচালান বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। বাংলাদেশের নাগরিকদের ওপর সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের আক্রমণ বা হত্যাকাণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে জাতীয় সীমানা সুরক্ষায় আপসহীন থাকার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখায় বলা হয়েছে, সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ভূমিকা পালন করবে। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার পাশাপাশি নিজেদের বিষয়েও বিদেশি হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না।
অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন প্রশ্নে বিএনপির ইশতেহারে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তিসহ পদ্মা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার জোরালো অঙ্গীকার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে উত্তরবঙ্গের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় ‘তিস্তা মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়ন এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অন্যতম ফোরাম ‘যৌথ নদী কমিশনকে’ (জেআরসি) আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার পরিকল্পনাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পররাষ্ট্রনীতির এই নতুন বিন্যাসকে বিশ্লেষকরা ঢাকার কূটনৈতিক অবস্থানে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। যেখানে জাতীয় স্বার্থকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিশাল এই কর্মপরিকল্পনায় পররাষ্ট্রনীতির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সংস্কারকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএনপি বলছে, ক্ষমতায় গেলে কোনো ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর, দুর্নীতি দমনে পদ্ধতিগত সংস্কার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই হবে দলটির মূল লক্ষ্য। এ ছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মতো সামাজিক সুরক্ষামূলক প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক