দিনাজপুরে তীব্র শীতের দাপট, স্থবির জনজীবন
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা দিনাজপুরে শীত দিন দিন আরও কঠোর রূপ নিচ্ছে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে এসে কনকনে ঠান্ডা, হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার সঙ্গে বৃষ্টির মতো ঝরতে থাকা শিশির জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। পৌষের মাঝামাঝিতে জেঁকে বসা এই শীতের দাপটে ঠান্ডার অনুভূতি এখন বহুগুণে তীব্র।
আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ভোরের আগেই দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতের চাদরে ঢাকা পড়ে। শীতের তীব্রতায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না, ফলে সড়ক ও হাটবাজারে উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল প্রায় ৯২ শতাংশ, যার ফলে শীতের অনুভূতি অনেক বেশি প্রকট হয়েছে।
বিশেষ করে খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলায় শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোরের ঠান্ডায় দিনমজুর ও রিকশাচালকরা কাজে বের হতে পারছেন না। হোসেনপুর গ্রামের কৃষক ইয়াসিন বলেন, “তীব্র শীতে ঘর থেকে বের হতে মন চায় না, শরীর জমে যায়। তারপরও জমি ও বাড়ির কাজে যেতে হয়।” অন্যদিকে দিনমজুর আনিস বলেন, “গরিব মানুষ—ঠান্ডা উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হয়, কাজ না করলে তো পেটে ভাত জুটবে না।”
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি বর্তমানে তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, “দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান যত কম হয়, শীতের অনুভূতি তত বেশি হয়। চলমান এই আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।” এই সময়ের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে অথবা সামান্য হ্রাস-বৃদ্ধি পেতে পারে।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)