শেষ সময়ে খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারপারসন ও দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পুরো দেশকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন তার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠজনেরা। সঙ্গে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারা দেশে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোকাচ্ছন্ন নেতাকর্মীরা ভিড় করেছেন রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এভারকেয়ার হাসপাতাল, চেয়ারপারসনের গুলশানের বাড়ি ও রাজনৈতিক কার্যালয় এবং নয়াপল্টন এলাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন তাঁর ভক্ত, অনুসারী ও সাধারণ মানুষ।
আরও পড়ুন : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বাবায়ক নাহিদ ইসলাম, এবি পার্টির মুজিবুর রহমান মঞ্জু গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোগী এনটিভির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ মোসাদ্দেক আলী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন : খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের গভীর শোক
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর দেখা দেয় নিউমোনিয়া। এর সঙ্গে রয়েছে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পুরোনো সমস্যা। ফলে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, একটি রোগের চিকিৎসা দিতে গেলে আরেকটির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল। তাঁর অনেক শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালের কেবিন থেকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যে অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অবস্থা সংকটময় হলে এভারকেয়ার হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক